বারুইপুরকাণ্ডে তোলপাড়, এবার মুখ খুললেন সায়নী ঘোষ, গণপিটুনি নিয়ে দিলেন কড়া বার্তা!

বারুইপুরে ১১ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। রবিবার সারাদিন এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে বারুইপুর এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ঘটনার বিচার চেয়ে রাস্তা অবরোধ, বিক্ষোভ এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার মতো উত্তপ্ত পরিস্থিতির সাক্ষী থেকেছে এলাকা। এই উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেই গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়েছে অভিযুক্ত এক যুবকের। এই পুরো ঘটনাপ্রবাহে এবার মুখ খুললেন যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।
বারুইপুরকাণ্ড নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন সাংসদ সায়নী ঘোষ। তিনি লেখেন, “বারুইপুরে ঘটে যাওয়া এই নারকীয় ঘটনায় আমি স্তম্ভিত এবং মর্মাহত। শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা আমার নেই। এই কঠিন সময়ে সামাজিক, মানসিক ও প্রশাসনিকভাবে আমি ওই নাবালিকার পরিবারের পাশে আছি।” সায়নী আরও জানান, তিনি এই বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। সাংসদের কথায়, “মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আমার বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। উনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, রাজ্য সরকার অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অপরাধীদের শনাক্ত করতে বদ্ধপরিকর। দোষীদের অতি দ্রুত চিহ্নিত করে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য এবং কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে রাজ্য প্রশাসন কোনো খামতি রাখবে না।”
তদন্তের সুবিধার্থে রাজ্য প্রশাসন ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করেছে। বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জোনাল)-এর নেতৃত্বে ৫ সদস্যের এই দলটি ঘটনার তদন্তভার গ্রহণ করেছে। সায়নী ঘোষ তদন্তের তদারকি প্রসঙ্গে বলেন, “একজন স্থানীয় সাংসদ হিসেবে প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে আমি নিশ্চিত করছি যেন তদন্ত প্রক্রিয়া সঠিক পথে ও দ্রুত সম্পন্ন হয়। আমি জরুরি পদক্ষেপের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।”
অন্যদিকে, নাবালিকার মৃত্যুর পর যে জনরোষ তৈরি হয়েছে এবং যার জেরে গণপিটুনিতে এক অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে, তারও তীব্র সমালোচনা করেছেন সাংসদ। তিনি বলেন, “এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা স্বাভাবিক, কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারুর নেই। আমি শোকসন্তপ্ত পরিবার এবং স্থানীয় জনগণের কাছে আবেদন জানাচ্ছি—প্রশাসনের প্রতি আস্থা রাখুন। আইন হাতে তুলে না নিয়ে পুলিশকে তদন্তে সাহায্য করুন এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখুন।”
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তের পর নাবালিকার মরদেহ কাঁটাপুকুর মর্গ থেকে গ্রামে নিয়ে আসা হয়েছে। একদিকে খুনের তদন্ত এবং অন্যদিকে জনরোষে পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ এবার কড়া অবস্থান নিতে চলেছে। পুলিশ ক্যাম্প ভাঙচুর, পুলিশকর্মীদের মারধর ও রাস্তা অবরোধের ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বারুইপুরকাণ্ডে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে উত্তাপ এখন তুঙ্গে।