জ্বালানি বিপ্লব! পেট্রোলের পর এবার ডিজেলের বিকল্প আনছে কেন্দ্র, নিতিন গড়করির ঘোষণা ঘিরে শোরগোল

জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ‘ক্লিন এনার্জি’ বা পরিবেশবান্ধব জ্বালানির দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ভারত। পেট্রোলে ইতিমধ্যে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত ‘ই২০’ জ্বালানি জনপ্রিয় হয়েছে। এবার ডিজেলে ১৫ শতাংশ আইসোবিউটানল মেশানোর পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি এই আমূল পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও হাইওয়ে মন্ত্রী নিতিন গড়করি।কেন এই পরিকল্পনা? মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, ডিজেলে সরাসরি ইথানল মেশানো প্রযুক্তিগত কারণে সম্ভব নয়। তাই বিকল্প হিসেবে ইথানল থেকে আইসোবিউটানল তৈরির প্রক্রিয়ায় জোর দিচ্ছে সরকার। এটি ডিজেলের কার্যকর বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এমনকি, পরীক্ষামূলকভাবে ১০০ শতাংশ ইথানল ও আইসোবিউটানল দিয়ে দুটি জেনারেটর সফলভাবে চালানো হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে এই জ্বালানিতে চলার উপযোগী ইঞ্জিন নির্মাণ করা সম্ভব।আইসোবিউটানলকে ‘নেক্সট জেনারেশন বায়ো-ফুয়েল’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর প্রধান সুবিধার মধ্যে রয়েছে উচ্চ শক্তির ঘনত্ব (High Energy Density) এবং ইঞ্জিনের উন্নত পারফরম্যান্স। প্রচলিত বায়ো-ফুয়েলের তুলনায় এটি ব্যবহারে ধোঁয়া ও পরিবেশ দূষণ অনেক কম হয়। সরকারি মহলের মতে, যদি ডিজেলে আইসোবিউটানলের মিশ্রণ সফলভাবে প্রয়োগ করা যায়, তবে ভারতের অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েল আমদানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।আইসোবিউটানল ($C_4H_{10}O$) মূলত একটি বর্ণহীন দাহ্য অ্যালকোহল। শিল্পক্ষেত্রে দ্রাবক হিসেবে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। বর্তমানে এটি বায়োফুয়েল হিসেবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে। এটি কেবল রং, বার্নিশ বা ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পেই নয়, বরং পরিবহন খাতের জ্বালানি হিসেবে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে।উল্লেখ্য, বর্তমানে পেট্রোল পাম্পগুলোতে উপলব্ধ ‘ই২০’ জ্বালানি নিয়ে জনমানসে কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। সরকারের ইথানল ব্লেন্ডিং প্রোগ্রাম নিয়ে বিভিন্ন মহলে ছড়ানো ভুয়ো তথ্য খণ্ডন করে কেন্দ্র জানিয়েছে, ই২০ জ্বালানি ব্যবহারে গাড়ির ইঞ্জিনের কোনো ক্ষতি হয় না, মাইলেজ কমে না এবং গাড়ির ইন্স্যুরেন্স বা ওয়ারেন্টিতেও এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না। সরকার জোর দিয়ে বলছে, আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক ইঞ্জিনের সমন্বয়ে পরিবেশবান্ধব জ্বালানিই ভারতের ভবিষ্যতের পথ।