৬০ শতাংশ DA পেয়েও কেন ক্ষুব্ধ সরকারি কর্মীরা? জেনে নিন কেন বাড়ছে বেতন বৃদ্ধির দাবি!

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা (DA) ৬০ শতাংশে পৌঁছে গেলেও কর্মীদের ক্ষোভ কমছে না। মুদ্রাস্ফীতির সাথে তাল মিলিয়ে বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবিতে সরব হয়েছেন দেশের বিভিন্ন কর্মী সংগঠন। যদিও সরকার বছরে দুবার ডিএ বৃদ্ধি করে, কিন্তু সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি হলো মহার্ঘ ভাতা মূল বেতনের (Basic Pay) সঙ্গে একীভূত বা ‘মার্জার’ করা। সপ্তম বেতন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ডিএ ৫০ শতাংশ অতিক্রম করলেই তা বেসিক পে-র সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে তা এখনও কার্যকর হয়নি।

কর্মী সংগঠনগুলোর মূল দাবি:
বর্তমানে অল ইন্ডিয়া ডিফেন্স এমপ্লয়িজ ফেডারেশন (AIDEF) এবং ন্যাশনাল কাউন্সিল-জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি (NC-JCM)-এর মতো সংগঠনগুলো ন্যূনতম বেতন ১৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৯,০০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের মতে, বর্তমান ফর্মুলায় নিম্ন বেতনভুক কর্মীদের খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে। মহারাষ্ট্র ওল্ড পেনশন অর্গানাইজেশনের দাবি, কমপক্ষে ৫০ শতাংশ ডিএ মার্জার এবং ন্যূনতম বেতন ৬৫,০০০ টাকা করতে হবে।

DA মার্জার কেন জরুরি?
মহার্ঘ ভাতা মূল বেতনের অংশ হলে কর্মচারীদের পিএফ (PF), গ্র্যাচুইটি ও পেনশনের মতো অবসরকালীন সুবিধায় সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। বর্তমানে বেসিক পে-র চেয়ে ভাতার ওপর নির্ভরশীলতা বেশি হওয়ায় অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বেতন সংশোধনের দীর্ঘ ব্যবধানের কারণে ক্রয়ক্ষমতা যেভাবে কমছে, তা পুষিয়ে নিতে এই মার্জার অপরিহার্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরে বড় বদল:
৮ম বেতন কমিশনের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’। যদি ১.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কার্যকর করা হয়, তবে ন্যূনতম বেসিক পে ১৮,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩২,৯৪০ টাকায় পৌঁছাতে পারে। লেভেল ৬-এর ক্ষেত্রে তা ৩৫,৪০০ থেকে বেড়ে ৬৪,৭৮২ টাকা এবং সর্বোচ্চ লেভেল ১৮-তে তা ২,৫০,০০০ থেকে ৪,৫৭,৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এই বিপুল বেতন বৃদ্ধির আশায় অপেক্ষায় রয়েছেন কোটি কোটি কর্মী।

৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া স্মারকলিপি জমার প্রক্রিয়া ১৫ জুন শেষ হয়েছে। সরকার এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না দিলেও, কর্মী সংগঠনগুলির এই দাবিগুলো ৮ম বেতন কমিশনের বিবেচনার কেন্দ্রে রয়েছে। এখন চূড়ান্ত সুপারিশের অপেক্ষায় রয়েছে গোটা দেশ।