গর্ভাবস্থায় রক্তপাত কি গর্ভপাতের ইঙ্গিত? ইমপ্লান্টেশন ব্লিডিং চেনার সহজ উপায় জানুন

গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে রক্তপাত হওয়া মানেই গর্ভপাত নয়। তাই আতঙ্কিত না হয়ে ইমপ্লান্টেশন ব্লিডিং এবং গর্ভপাতের মধ্যে পার্থক্য বোঝা প্রতিটি হবু মায়ের জন্য জরুরি। সাধারণত নিষিক্ত ডিম্বাণু জরায়ুর আস্তরণে সংযুক্ত হলে ইমপ্লান্টেশন ব্লিডিং হয়, যা গর্ভধারণের ৬ থেকে ১২ দিনের মধ্যে দেখা দেয়। এই রক্তপাত অত্যন্ত হালকা, গোলাপি বা বাদামি রঙের হয় এবং সাধারণত কয়েক ঘণ্টা থেকে দুই দিন স্থায়ী হয়। এতে তীব্র ব্যথার বদলে খুব মৃদু ক্র্যাম্পিং হতে পারে।

অন্যদিকে, গর্ভপাতের ক্ষেত্রে রক্তপাত সাধারণত অল্প দিয়ে শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে তা বাড়তে থাকে। এই রক্ত উজ্জ্বল লাল রঙের হয় এবং এতে জমাট বাঁধা রক্ত বা টিস্যু থাকতে পারে। এর সঙ্গে কোমর বা তলপেটে তীব্র ব্যথা হতে পারে। আমেরিকান কলেজ অফ অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টস-এর মতে, গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহের আগে রক্তপাত হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তবে মনে রাখতে হবে, রক্তপাত মানেই গর্ভাবস্থা ঝুঁকির মুখে—এমন নয়। সাবকোরিওনিক ব্লিডিং বা একটোপিক প্রেগন্যান্সির মতো অন্য কারণেও রক্তপাত হতে পারে।

সুতরাং, গর্ভাবস্থায় রক্তপাত দেখা দিলে দেরি না করে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পেলভিক পরীক্ষা, আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান এবং বিটা-এইচসিজি (β-hCG) পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভাবস্থার সঠিক অবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব। সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে ভীতি দূর করা এবং গর্ভাবস্থাকে সুরক্ষিত রাখা সহজ হয়।