আর উঁকি মারতে পারবেন না কেউ! বাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন এবং বাসস্থান নিয়ে আমজনতার কৌতূহল তুঙ্গে। একসময় হরিশ মুখার্জি রোডের বাসভবন ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সেই বাড়ির সামনে ভিড় জমিয়ে সাধারণ মানুষ ছবি তোলার জন্য ভিড় করতেন। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন। অভিষেক এখন বসবাস করেন কালীঘাট রোডের নিজের সুসজ্জিত বাড়িতে। কিন্তু নিরাপত্তার খাতিরে এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখতে এবার সেই বাড়িতেও নয়া সুরক্ষাকবচ বসাতে চলেছেন তিনি।
সূত্রের খবর, কালীঘাট রোডের ওই বাসভবনের প্রধান গেটে এবার বসানো হচ্ছে ‘ভিউ কাটার’। এর ফলে বাইরের রাস্তা থেকে বাড়ির ভেতরটা আর আগের মতো সহজে চোখে পড়বে না। সাধারণ পথচারী কিংবা উৎসুক জনতার বাড়তি নজরদারি থেকে মুক্তি পেতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তৃণমূলের ‘সেকেন্ড ইন কম্যান্ড’। অনেক সময় দেখা যায়, রাজনৈতিক গুরুত্বের কারণে ওই বাড়ির সামনে অকারণে ভিড় জমান অনেকে। অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তারক্ষীদের চোখ এড়িয়ে বাড়ির ভেতরের ছবি তোলার চেষ্টাও চলে। এই ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা রুখতেই আধুনিক প্রযুক্তির ভিউ কাটার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এখন রাজ্যের শাসকদলের অন্যতম প্রধান মুখ। তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়েই যেমন চর্চা চলে, তেমনই তাঁর নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। হরিশ মুখার্জি রোডের পুরনো বাড়িতে থাকাকালীন যেভাবে ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হতো, কালীঘাটের নতুন বাসভবনে সেই সমস্যার পুনরাবৃত্তি চাইছে না তাঁর নিরাপত্তা দল। ভিউ কাটার বসানোর ফলে একদিকে যেমন বাড়ির অন্দরমহলের গোপনীয়তা বজায় থাকবে, তেমনই নিরাপত্তা বলয়কে আরও নিশ্ছিদ্র করা সম্ভব হবে।
ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্নে অভিষেক বরাবরই আপসহীন। যদিও তিনি জনগণের প্রতিনিধি, তবুও নিজের এবং পরিবারের ব্যক্তিগত পরিসর বা ‘প্রাইভেসি’ নিয়ে তিনি বরাবরই সচেতন। এই পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষ বা সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার হাত থেকে বাড়ির অন্দরমহল সুরক্ষিত থাকবে। বর্তমানে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে, নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না তাঁর টিম। এই নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা সেই সুরক্ষাকবচকেই আরও শক্তিশালী করল বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।