‘হাত কেটে ফেলব!’ সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে যুদ্ধের দামামা?

ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার জেরে ভারত ‘সিন্ধু জল চুক্তি’ স্থগিত করার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে শুরু হয়েছে স্নায়ুযুদ্ধ। এবার পরিস্থিতি আরও জটিল করে ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘হাত কেটে নেওয়ার’ হুমকি দিলেন পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদ্দিক মালিক।
কী বললেন পাক মন্ত্রী?
এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে মুসাদ্দিক মালিক আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, “এক প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে জলের কল (ট্যাপ) নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। তিনি বলছেন, পাকিস্তানে এক ফোঁটাও জল আসতে দেবেন না। আমাদের জলের অংশের ওপর যারা দাবি জানাবে, আমরা তাদের সেই হাত কেটে ফেলব।” তাঁর এই উস্কানিমূলক মন্তব্যের ভিডিও ক্লিপ ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। পাকিস্তানের জল সুরক্ষা নিয়ে পাকিস্তান যে সামরিক সংঘাতের পথেও হাঁটতে পারে, সেই ইঙ্গিতই বারবার উঠে আসছে পাক মন্ত্রীদের কথায়।
আইনি লড়াই ও সেমিনারের প্রস্তুতি:
অন্যদিকে, পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জোর দিয়ে বলেছেন, সিন্ধু জল চুক্তি আইনত বাধ্যতামূলক এবং তা একতরফাভাবে বাতিল করা সম্ভব নয়। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে সমর্থিত। ইসলামাবাদে মঙ্গলবার একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে জল বিশেষজ্ঞ ও আইনি প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পাকিস্তানের জল-অধিকার নিয়ে কারিগরি ও আইনি লড়াইয়ের কৌশল ঠিক করা হবে। তথ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, জল পাকিস্তানের জন্য ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় সীমারেখা।
ভারতের অবস্থান ও সন্ত্রাসবাদ ইস্যু:
১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তান এই চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলগাঁও হামলার পর ভারতের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে। ভারতের দাবি, সন্ত্রাসবাদ ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা—একসাথে চলতে পারে না। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের ফার্স্ট সেক্রেটারি অনুপমা সিং স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, যে দেশ নীতিগতভাবে সন্ত্রাস রপ্তানি করে, তারা বন্ধুত্বের দোহাই দিয়ে সহযোগিতার সুবিধা দাবি করতে পারে না। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই চুক্তিটি এখন অনেকটাই সেকেলে ও অকার্যকর।
যুদ্ধের আশঙ্কা কি বাস্তব?
এর আগেও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ একই রকম সুর চড়িয়ে বলেছিলেন, জলের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াতে দ্বিধা করবে না। যদিও ভারত তার অবস্থানে অনড়। নয়াদিল্লি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তান যতক্ষণ না আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধ করছে, ততক্ষণ এই চুক্তির সুবিধা পাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
পাকিস্তান ক্রমাগত আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ঢাকতে চাইছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, জল নিয়ে এই দড়ি টানাটানি ভবিষ্যতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো বড় সামরিক সংঘাতের রূপ নেয় কি না। ভারতের তরফে অবশ্য এই হুমকির কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলানো হয়নি, তবে সীমান্তে নিরাপত্তার নজরদারি বাড়িয়েছে নয়াদিল্লি।