ইউরোপে ‘নীরব ঘাতক’-এর দাপট! তাপপ্রবাহে ১,৩০০ জনের মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

ইউরোপজুড়ে বর্তমানে এক ভয়াবহ তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত ২১ জুন থেকে শুরু হওয়া এই চরম আবহাওয়ার জেরে ইতিমধ্যেই ১,৩০০-রও বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। রবিবার এই মর্মান্তিক তথ্য প্রকাশ করে সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইউরোপে এমনভাবে পড়ছে যে, এই ধরণের তাপপ্রবাহ এখন প্রায় প্রতি বছরই ফিরে আসছে।

মৃত্যুর মিছিল ও স্বাস্থ্যব্যবস্থায় সংকট:
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তাপপ্রবাহের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে ফ্রান্সে। গত ২৪ জুন থেকে শুরু হওয়া কয়েক দিনের তীব্র দাবদাহে সেখানে প্রত্যাশিত সংখ্যার তুলনায় প্রায় ১,০০০ জন বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তীব্র গরমে অসুস্থ রোগীর সংখ্যা এতই বেড়ে গেছে যে, হাসপাতালগুলোর ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। একাধিক দেশে স্বাস্থ্য পরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়ার উপক্রম।

রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রা ও প্রভাব:
আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, গত ২৮ জুন ইউরোপের প্রায় ১৯ কোটি ১০ লক্ষ মানুষকে অন্তত ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রা ভোগ করতে হয়েছে, যা ইউরোপীয় আবহাওয়া ইতিহাসে বিরল। সবচেয়ে বেশি গরমের দাপট দেখা গেছে জার্মানি, চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরি এবং পোল্যান্ডে। তুরস্ক বাদে ইউরোপের প্রায় ৩৮ কোটি ১০ লক্ষ মানুষের এলাকায় তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে রয়েছে।

‘নীরব ঘাতক’ ও পরিকাঠামোর দুর্বলতা:
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া বার্তায় ডঃ টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস বলেন, “অতিরিক্ত গরম বা হিট স্ট্রেসকে প্রায়ই ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। সমস্যাটা শুধু তাপমাত্রায় নয়, ইউরোপের অধিকাংশ বাড়ি, কর্মক্ষেত্র ও স্কুল এমন তীব্র তাপ সহ্য করার উপযোগী করে তৈরি করা হয়নি।” চরম গরমে কোটি কোটি মানুষ দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন। অনেক জায়গায় স্কুল বন্ধ রাখতে হয়েছে এবং বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর ওপর অসহনীয় চাপ তৈরি হয়েছে।

দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে ইউরোপ:
WHO-র দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ হলো ইউরোপ। বিশ্ব গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে মহাদেশটির তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের এক ভয়াবহ সংকেত। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপের দেশগুলোকে দ্রুত ‘হিট হেলথ অ্যাকশন প্ল্যান’ কার্যকর করার ডাক দিয়েছে রাষ্ট্রসংঘের এই স্বাস্থ্য সংস্থা। পাশাপাশি, চরম গরম মোকাবিলায় স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, প্রস্তুত ও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ইউরোপের এই পরিস্থিতি বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের জন্যও এক বড় সতর্কবার্তা।