সিন্ধু জল নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি ইসলামাবাদের! পাল্টা কী পদক্ষেপ নিচ্ছে ভারত?

দীর্ঘদিন ধরে চলা কাশ্মীর ইস্যুর পাশাপাশি এবার সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি (Indus Waters Treaty) নিয়ে নতুন করে ভারতকে হুমকি দিল পাকিস্তান। পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মুসাদিক মালিক সম্প্রতি এক সাংবাদিক সম্মেলনে সরাসরি ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তির অধীনে পাকিস্তানের ভাগের জল কেউ নেওয়ার চেষ্টা করলে, তার হাত কেটে নেওয়া হবে।” এই উস্কানিমূলক মন্তব্যের পর দুই দেশের জল সংক্রান্ত বিবাদ ফের নতুন মাত্রা পেল।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারের সঙ্গে এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে মুসাদিক মালিক অভিযোগ করেন যে, ভারত তাদের জল সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করার বা জল বন্ধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। পাক সংবাদমাধ্যম ‘ডন’ এবং ’24NewsHD’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মন্ত্রী আরও দাবি করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্তব্য যে ‘পাকিস্তানকে এক ফোঁটা জলও ছাড়া হবে না’, তা কার্যত পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত। এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই তিনি বলেন, যারা পাকিস্তানের ভাগের জল দখলের চেষ্টা করবে, তাদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

যদিও এই ধরণের প্ররোচনামূলক মন্তব্যের সত্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, তবুও পাকিস্তানের এই উগ্র অবস্থানকে মোটেও হালকাভাবে দেখছে না নয়াদিল্লি। তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি একটি আইনত বৈধ আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং এটি পাকিস্তান নিজের স্বার্থেই রক্ষা করবে। ভারতকে কোনোভাবেই পাকিস্তানের ভাগের জল আটকাতে দেওয়া হবে না।

এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদে মঙ্গলবার সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে একটি প্রথম আন্তর্জাতিক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এই সম্মেলনে অংশ নিতে ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আইন বিশেষজ্ঞ, জল সংক্রান্ত বিষয়ের গবেষক এবং বিদেশি প্রতিনিধিরা পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এই আলোচনার মাধ্যমেই তারা ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের চেষ্টা করবে।

উল্লেখ্য, অতীতেও একাধিকবার যুদ্ধের হুমকি দিয়ে ভারতের সামনে নাস্তানাবুদ হয়েছে পাকিস্তান। এমনকি যুদ্ধের তীব্রতা কমাতে আমেরিকা ও অন্যান্য শক্তিশালী দেশের দ্বারস্থ হতে হয়েছে তাদের। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও চরম অর্থনৈতিক সংকট থেকে নজর ঘোরাতেই পাকিস্তান সরকার ফের ভারতকে নিশানা করছে। ভারতের পক্ষ থেকে অবশ্য এই বিষয়ে এখনও কোনো কঠোর প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি, তবে নয়াদিল্লি যে তার জলসীমা ও চুক্তির শর্তের বিষয়ে আপসহীন, তা বলাই বাহুল্য। সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে এই নতুন বিরোধ দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে আরও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।