রাহুল ব্যানার্জির মৃত্যু তদন্তে ৪ মাস পার, নীরবতা ভাঙলেন জিতু কামাল: ‘চেনা মুখোশ আর মুখ’!

টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জির রহস্যমৃত্যুর চার মাস অতিক্রান্ত। গত ২৯ মার্চ স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ভোলেবাবা পার করেগা’-এর আউটডোর শুটিংয়ে গিয়ে জলে ডুবে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনার শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই বর্তমানে বিচার চেয়ে সরব হয়েছেন অভিনেতা জিতু কামাল। চার মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে জিতু কামাল এক দীর্ঘ ও মর্মস্পর্শী পোস্ট করেছেন। পোস্টে তিনি সরাসরি নাম না করে রাজনৈতিক মহলের একাংশ এবং তদন্তকারী আধিকারিকদের দিকে আঙুল তুলেছেন। তিনি লিখেছেন, “২৯ আসে, ঊনত্রিশ যায়। গৌতম-পুত্রের মৃত্যু তদন্ত, তদন্তেই থেকে যায়।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, জেতার আগে যে নেতারা অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, জেতার পরই তাঁরা ‘ভো-কাট্টা’ হয়ে গিয়েছেন। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে পুলিশ, মন্ত্রী এবং অনেক ষড়যন্ত্রী একইভাবে বিষয়টি এড়িয়ে চলেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

জিতু কামালের এই প্রতিবাদ নতুন নয়। এর আগেও রাহুলের মৃত্যুর প্রতিবাদে টলিউডের মিছিলে তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেবার নিজের ছবিতেই মালা পরিয়ে এক অভিনব ও প্রতিবাদী ভঙ্গি দেখিয়েছিলেন তিনি। জিতুর মতে, রাহুলের মতো একই পরিণতি তাঁরও হতে পারত। তাই ন্যায়বিচারের দাবিতে তিনি আবারও বিপ্লবের সুর তুলেছেন। তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, প্রয়োজনে আবারও নির্ভীক গলায় প্রতিবাদ করবেন।

এদিকে, এই ঘটনার তদন্তে বড় মোড় এসেছে। রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে সক্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার তদন্তভার সিআইডি (CID)-র হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। দিঘায় আয়োজিত এক প্রশাসনিক বৈঠকের পর তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফাইল হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, যেহেতু ঘটনাটি উদয়পুরের এবং ওড়িশা সরকার ইতিমধ্যেই একটি এসআইটি (SIT) গঠন করেছে, তাই উভয় রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করে তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

রাহুলের মৃত্যুর ন্যায়বিচারের দাবিতে সাধারণ মানুষ এবং চলচ্চিত্র শিল্পীদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা রয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া এখন সিআইডির হাতে যাওয়ার ফলে রহস্যের কিনারা হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। অভিনেতা জিতু কামালের এই সোচ্চার বার্তা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, যা রাহুলের মৃত্যুর সঠিক তদন্তের দাবিতে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বরকে আরও জোরদার করেছে।