তৃণমূলের ৪৪০ কোটির অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ! জরুরি শুনানির আর্জি খারিজ হাইকোর্টে, কী করবে দল?

তৃণমূল কংগ্রেসের আর্থিক নিয়ন্ত্রণের দখল ঘিরে তৈরি হওয়া সংকট এবার আদালতের চৌকাঠে। দলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ার ঘটনায় দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তৃণমূলের আইনজীবী তথা বর্ষীয়ান নেতা অভিষেক মনুসিংভী। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই মামলার জরুরি শুনানির দাবি জানানো হলেও আদালত আপাতত তাতে সায় দেয়নি। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, মামলার কপি বিরোধী পক্ষকে আগে পৌঁছাতে হবে। মঙ্গলবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত দলের অন্দরে ভাঙন এবং কোষাধ্যক্ষ পদের আইনি বৈধতা নিয়ে। জানা গেছে, এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের সেন্ট্রাল প্লাজা শাখায় থাকা তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্ট থেকে সমস্ত রকম আর্থিক লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই অ্যাকাউন্টগুলিতে গচ্ছিত রয়েছে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা। ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে বিধাননগর পুলিশের সাইবার সেলের নির্দেশ। দলীয় বিক্ষুব্ধ শিবিরের বিধায়কদের অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করার পরামর্শ দিয়েছিল।

তৃণমূলের অন্দরে এখন কোষাধ্যক্ষ নিয়ে চরম টানাপোড়েন চলছে। সূত্রের খবর, প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ১২ জুন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন, যেখানে তিনি নিজেকে দলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দাবি করে লেনদেন বন্ধ করার অনুরোধ জানান। এদিকে তৃণমূল নেতৃত্বের পালটা দাবি, গত ৫ জুনই অরূপ বিশ্বাসকে কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সেই দায়িত্বে এসেছেন শুভাশিস চক্রবর্তী। এই দুই অবস্থানের সংঘাত থেকেই ব্যাঙ্কের এই কঠোর পদক্ষেপ।

দলীয় স্তরে এই বড় বিপর্যয়কে সামাল দিতে তৃণমূল হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়েছে। আইনজীবী অভিষেক মনুসিংভী আজ সোমবার দুপুর দুটোর সময় মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়েছিলেন। কিন্তু আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যথাযথ নিয়ম মেনে মামলার নথিপত্র অন্যপক্ষের কাছে পৌঁছানোর পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তৃণমূলের এই ৪৪০ কোটি টাকার অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। দল পরিচালনার যাবতীয় তহবিল বর্তমানে থমকে যাওয়ায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক ব্যয়ভার বহন করা নিয়ে দলের সামনে বড় সংকট তৈরি হয়েছে। অরূপ বিশ্বাস বনাম নতুন কোষাধ্যক্ষ শুভাশিস চক্রবর্তীর এই লড়াই এখন আইনি পথে কতটা এগোয় এবং আদালত শেষ পর্যন্ত কী রায় দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজ্য রাজনীতি।