ক্ষমতা হারানো কি শাপমুক্তি? তৃণমূলের ‘আবর্জনা’ সাফ নিয়ে কুণাল ঘোষের বিস্ফোরক বার্তা!

রাজ্যের ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এখন চলছে তীব্র আত্মবিশ্লেষণ। এমন কঠিন সময়েই দলের হারের ঘটনাকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাখ্যা করলেন কালিঘাট তৃণমূলের অন্যতম মুখ কুণাল ঘোষ। তাঁর মতে, সরকার পতনের এই ঘটনা আদতে দলের জন্য একটি ‘শাপমুক্তি’র মতো। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ পোস্টে কুণাল ঘোষ সরাসরি আক্রমণ করেছেন দলের অন্দরে থাকা সুবিধাবাদী এবং দুর্নীতিগ্রস্তদের।
ফেসবুকে কুণাল লিখেছেন, “৪ মে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার পরাজিত হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে খারাপ লেগেছিল। নিজের দল হারলে যেমন লাগে। বেলেঘাটায় আমার জয়টাও তেমন আনন্দ দিতে পারেনি।” কিন্তু এই হতাশার মেঘ কাটিয়ে বর্তমানে তিনি মনে করছেন, এই পরাজয় দলের শুদ্ধিকরণের জন্য অনিবার্য ছিল।
কুণালের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে তৃণমূলের অন্দরের তিক্ত সত্য। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যদি দল পুনরায় ক্ষমতায় ফিরত, তবে দলের প্রকৃত শুভানুধ্যায়ীদের বদলে স্তাবক এবং সুবিধাবাদীদের ভিড় আরও বাড়ত। তাঁর কথায়, “যদি তৃণমূল জিতত, এই বিশ্বাসঘাতকরাই স্তাবক হয়ে দিদিকে ঘিরে রাখত; যারা সুবিধেবাদী, তারাই বন্ধু সেজে আমাদের সঙ্গে মিশত; কিছু চোর-ডাকাত, যারা নিজেদের বাঁচাতে সাধু সাজছে, তারা আরও লাগামছাড়া চুরি করত; দলের কারুর কারুর ঔদ্ধত্য ও অহঙ্কার আরও বাড়ত।”
শুধুমাত্র রাজনৈতিক নেতা বা দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধেই নয়, কুণাল সরব হয়েছেন প্রশাসনের একাংশ এবং সুশীল সমাজের সুবিধাবাদী অংশের বিরুদ্ধেও। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতার দাপটে পুলিশ, আমলা এবং কিছু মুখোশধারী বুদ্ধিজীবী দলটিকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করত। এই ভিড়ের চাপে প্রকৃত কর্মীরা দিনের পর দিন অবহেলার শিকার হচ্ছিলেন। কুণালের মতে, এই ভোটের ফল যদিও শাসনক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে, কিন্তু তা দলের ভিতরের ‘আবর্জনা’ পরিষ্কার করে প্রকৃত মানুষের পরিচয় সামনে এনেছে।
তবে ক্ষমতা হারালেও তৃণমূল শেষ হয়ে যায়নি—সেই বার্তাও তিনি দিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে কুণাল লিখেছেন, “মাথার উপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সর্বত্র দলকে প্রকৃত ভালোবাসা কর্মীরা। তৃণমূল কংগ্রেস লড়াই চালাবে।” তাঁর মতে, আপাতদৃষ্টিতে খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে গেলেও এই অগ্নিপরীক্ষা দলকে আগামীর জন্য আরও শক্তিশালী করে তুলছে।
কুণালের এই ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চলছে ব্যাপক চর্চা। ক্ষমতার মোহে যারা এতদিন দলের সঙ্গে ছিল, তারা এখন কোন দিকে পা বাড়ায়, সেদিকেই নজর রাখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। কুণাল ঘোষের স্পষ্ট বার্তা—”আরে, ক্ষমতামুখী সুবিধেবাদী স্রোতের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্যেও দম দরকার।” তৃণমূলের এই কঠিন সময় যে দলের অন্দরে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, কুণালের পোস্ট সেদিকেই আঙুল তুলছে।