ধ্বংসস্তূপের নিচে মিরাকল! ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে ৩৩ জন জীবিত উদ্ধার, আশা বাঁচিয়ে রাখল ১১ বছরের মোইসেস

ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে এক করুণ ও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে জনপদ, প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১,৪৫০ জন। তবে এই ঘোর অমানিশার মধ্যেও ভেসে আসছে প্রাণের স্পন্দন। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, বিপর্যয়ের পঞ্চম দিনেও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এই খবরটি হাজার হাজার নিখোঁজ মানুষের স্বজনদের কাছে যেন খড়কুটোর মতো আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে।
গত বুধবার মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে রিখটার স্কেলে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনেজুয়েলায়। এতে প্রায় আটশ’ ভবন ধসে পড়ে এবং বহু মানুষ মাটির নিচে চাপা পড়েন। ঘটনার পর থেকে প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা উদ্ধারকাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হলেও, সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও উদ্ধারকারীরা হাল ছাড়েননি। প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্ধার অভিযানের বেশ কিছু ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে মোইসেস নামে ১১ বছর বয়সী এক ছেলের অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে ফেরার দৃশ্য ভাইরাল হয়েছে। উদ্ধারকারী দল প্রায় ৬ ঘণ্টা সতর্ক অভিযান চালিয়ে ৩ মিটার গভীর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাকে উদ্ধার করে। মোইসেস বেঁচে ফিরলেও, তার পাশে পড়ে থাকা মা ও বোনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা এই দুর্ঘটনার করুণ পরিণতির কথাই মনে করিয়ে দেয়।
কারাবায়েদা উপকূলীয় এলাকাটি এই ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয়রা জানান, তারা এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মানুষের সাড়া পাচ্ছেন। কিন্তু কংক্রিটের বিশাল স্ল্যাব সরানো এবং ভারী যন্ত্রপাতির অভাব উদ্ধারকাজকে মন্থর করে দিয়েছে। জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোল্লা সতর্ক করে বলেছেন, “সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, কিন্তু এখনো জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা রয়ে গেছে।”
অধিকাংশ ভবনে তল্লাশি এখনো বাকি রয়েছে বলে জানিয়েছে অগ্নিনির্বাপক বাহিনী। ভেনেজুয়েলার এই সংকটে উদ্ধার হওয়া প্রতিটি জীবনই যেন এখন এক একটি আশার প্রতীক। স্বজনহারা মানুষরা এখনো ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন—যদি আবারও কোনো প্রাণের সাড়া পাওয়া যায়। পুরো দেশ এখন প্রার্থনায় মগ্ন, ধ্বংসস্তূপের স্তূপ থেকে যেন আরও কোনো মোইসেস বা কোনো বাবা-ছেলে সুস্থভাবে ফিরে আসতে পারে। সরকার উদ্ধারকাজ জোরদার করার দাবি জানালেও, ধ্বংসস্তূপের বিশালতা ও সময়ের সাথে প্রতিযোগিতায় বেঁচে থাকার লড়াইটি দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।