বাঘের ডেরা থেকে সোজা জেলে! আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তোলাবাজির অভিযোগে শ্রীঘরে প্রাক্তন কাউন্সিলর

কলকাতার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য। এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা ফিরহাদ হাকিম-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মহম্মদ শামস ইকবাল। দীর্ঘদিনের অভিযোগ এবং আইনি প্রক্রিয়ার শেষে গার্ডেনরিচ থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। মূলত ২০২৩ সালের একটি চাঞ্চল্যকর তোলাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় তাঁর নাম জড়ানোয় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

অভিযোগের নেপথ্যে কী?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের জুন মাসে শাদাব নামে এক ব্যক্তি এবং তাঁর পরিবারকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে চরম আতঙ্কিত করা হয়েছিল। অভিযোগ, সেই সময় ওই ব্যক্তির কাছ থেকে খুনের ভয় দেখিয়ে ৭০ লক্ষ টাকা তোলাবাজি করা হয়েছিল। ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তি গার্ডেনরিচ থানায় মহম্মদ শামস ইকবাল এবং তাঁর দুই সহযোগী মহম্মদ ফরাজ ও ফিরোজ কুরেশির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্তের পর অবশেষে পুলিশ অভিযুক্ত প্রাক্তন কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

প্রভাবশালী কাউন্সিলরের অন্ধকার জগত
শামস ইকবাল বরাবরই কলকাতা পুরসভার অন্দরে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, হুমকি ও ভয় দেখানোর একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। ফিরহাদ হাকিমের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বৃত্তের মানুষ হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ দ্বিধায় পড়ে কি না, তা নিয়ে বরাবরই বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে এবারের ঘটনায় পুলিশের এই অ্যাকশন তৃণমূলের অন্দরেও অস্বস্তি বাড়াল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

তারতলা কাণ্ডে আরও চাপ
শামস ইকবালের গ্রেফতারির পাশাপাশি তারতলার গুদাম ধসের ঘটনায় তাঁর নাম জড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তারতলার ওই বিপর্যয় নিয়ে কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, কাউন্সিলর আনোয়ার খান এবং স্বয়ং শামস ইকবালের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে বিজেপির শ্রমিক সংগঠন ‘ভারতীয় জনতা মজদুর সেল’। তারতলা থানায় দায়ের করা অভিযোগপত্রে সংগঠনের দাবি, গুদাম ধসের পেছনে থাকা প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে কড়া শাস্তি দিতে হবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একযোগে তোলাবাজির মামলায় গ্রেফতারি এবং গুদাম ধসের ঘটনায় নাম জড়িয়ে পড়ার ফলে শামস ইকবাল ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের ওপর আইনি খাঁড়া নেমে এসেছে। একদিকে তোলাবাজির দায়ে জেলযাত্রা, অন্যদিকে তারতলা বিপর্যয়ের তদন্ত—সব মিলিয়ে শামস ইকবালের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার এই গ্রেফতারিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পুলিশের দাবি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এই গ্রেফতারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে তদন্তের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেয়।