বিয়ের আগে প্রেমিকের সঙ্গে মিলে হবু স্বামীকে খুন! পুণের ব্যবসায়ীর মৃত্যুতে বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

পুণের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ড কোনো দুর্ঘটনা ছিল না, বরং ছিল ঠান্ডা মাথার এক সুপরিকল্পিত খুন! দীর্ঘ তদন্তের পর পুলিশি জেরায় সামনে এল খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত বাগদত্তা সিয়া গোয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরির একের পর এক হাড়হিম করা মাস্টারপ্ল্যান। তদন্তকারীদের মতে, অবাঞ্ছিত বিয়ে এড়াতেই এই নৃশংস ষড়যন্ত্রের ছক কষা হয়েছিল।

ঘণ্টায় ঘণ্টায় ‘ডেথ প্ল্যান’: পুলিশ ও ডিজিটাল ফরেনসিক রিপোর্ট থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, খুনের দিন ১৮ জুন চেতন ও সিয়া অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তাদের পরিকল্পনা কার্যকর করেছিল:

  • সকাল ৭টা: ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট এড়াতে চেতন নিজের মোবাইলের ইন্টারনেট বন্ধ করে দেন।

  • সকাল ৮টা: চেতন নিজের ফোন দোকানেই রেখে যান এবং কর্মীদের নির্দেশ দেন কেউ ফোন করলে যেন তারাই রিসিভ করে—যাতে তিনি দোকানেই আছেন বলে প্রমাণ তৈরি হয়।

  • দুপুর: লোহাগড় দুর্গে যাওয়ার পথে নিজের ফোন ব্যবহার না করে এক কর্মচারীর ফোন ব্যবহার করেন চেতন, যাতে লোকেশন ট্র্যাক করা না যায়।

  • দুপুর ২:৩০: খুনের সময় ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তীব্র গরমেও চেতন মোটা শীতের হুডি পরেছিলেন, যাতে সিসিটিভি ক্যামেরায় চেহারা শনাক্ত না করা যায়। সিয়া একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বসা মাত্রই সেই সংকেত বুঝে চেতন আড়াল থেকে বেরিয়ে কেতনকে ৪০০ ফুট গভীর খাদে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন।

  • বিকেল ৫:৪০: খুনের কাজ শেষ হতেই চেতন আবার নিজের মোবাইলের ইন্টারনেট সংযোগ চালু করেন।

কীভাবে ফাঁস হলো পর্দা? শুরুতে সিয়া এটিকে ‘দুর্ঘটনা’ বলে চালানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পরিবারের সন্দেহ দানা বাঁধে ২১ জুন ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর। কেতনের বাবা বিশাল দেবীচাঁদ আগরওয়াল থানায় এফআইআর দায়ের করেন। তদন্তে উঠে আসে: ১. ঘটনার দিন দীর্ঘ সময় চেতনের মোবাইল অফলাইনে ছিল। ২. ৩৩ ডিগ্রি গরমেও হুডি পরার বিষয়টি ছিল অত্যন্ত সন্দেহজনক। ৩. সিয়ার মোবাইলে বারবার ‘চেতন’ নামের একজনের সাথে কথোপকথনের প্রমাণ এবং তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ইঙ্গিত।

তদন্তকারীদের দাবি, এই ডিজিটাল ও শারীরিক তথ্যপ্রমাণগুলোই শেষ পর্যন্ত চেতনের সাজানো ছক ভেঙে দিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করেই খুনের রহস্যের কিনারা করা সম্ভব হয়েছে। আপাতত দুজনেই পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।