কাজ করতে এসে ফেরা হলো না ঘরে! তারাতলা বিপর্যয়ে ১৬ জনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া

তারাতলায় গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনায় শোকের ছায়া কাটছে না। বিপর্যয়ের পঞ্চম দিনে ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও দেহ উদ্ধারের ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬। এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে এখনও মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ১২ জন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ (NDRF), পুলিশ এবং রেলের উদ্ধারকারী দল।
গোটা এলাকায় এখন কান্নার রোল। এই মৃত্যুর দায় কার—সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, শ্রমিকের সংখ্যা বা তাদের নিরাপত্তার কোনো রেকর্ডই রাখা হতো না এই গুদামে। দুই মুঠো ভাতের আশায় ভিনরাজ্য থেকে আসা হতভাগ্য শ্রমিকরা যে এভাবে মৃত্যুর মুখে পড়বেন, তা ছিল কল্পনাতীত। মুঙ্গের থেকে আসা একই পরিবারের ৬ জন শ্রমিকের মধ্যে ৩ জনই প্রাণ হারিয়েছেন এই বিপর্যয়ে। শিরচন কুমার, ঘি কুমার ও মন্নু কুমারের মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। আহত ১৭ জনের মধ্যে গতকাল ৪ জনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও, লড়াই থামেনি ১২ জনের।
গত ৪ দিন ৩ রাত ধরে চলছে উদ্ধারকাজ। আধুনিক ভিক্টিম লোকেটিং ক্যামেরা থেকে শুরু করে অক্সিকাটিং সেট ও প্লাজমা কাটিং মেশিন—সবই ব্যবহার করা হচ্ছে নিখোঁজদের সন্ধানে। বুধবার দুপুরে আচমকা হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়া এই গোডাউন যেন এক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছিল। শ্রমিকদের প্রতিদিনের কাজের কোনো খতিয়ান বা নথিবদ্ধকরণ না থাকায় সঠিক কতজন চাপা পড়েছিলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে। এখন পর্যন্ত মোট ৩৪ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
এই ঘটনায় কলকাতার পুলিশ কমিশনার কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতারে তৎপর। কিন্তু যাদের ভুলে আজ ১৬টি প্রাণ অকালে ঝরে গেল, তাদের শাস্তি কি আদৌ হবে? এই প্রশ্নই এখন তারাতলার বাতাসে ভাসছে। একটি অসংগঠিত কাজের জায়গা যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তার নগ্ন উদাহরণ এই গোডাউন বিপর্যয়। প্রশাসনের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্বস্তি নেই স্বজন হারানো মানুষগুলোর।