ডিজিটাল কর বনাম ১০০ শতাংশ শুল্ক! মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থার ওপর কর বসালে ইউরোপের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা ট্রাম্পের

মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর সুরক্ষায় ফের একবার কঠোর অবস্থানে ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার কোনো বড় প্রযুক্তি সংস্থায় যদি কোনো বিদেশি রাষ্ট্র ‘ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স’ (ডিএসটি) আরোপের সাহস করে, তবে তার ফল হবে ভয়াবহ—এমনটাই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শুক্রবার ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো দেশ যদি মার্কিন সংস্থাগুলোর ওপর এই ধরনের কর চাপায়, তবে আমেরিকাও হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। এর পরিবর্তে ওই দেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসা সমস্ত পণ্যের ওপর অবিলম্বে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লিখেছেন, ইউরোপের একাধিক দেশ মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর ওপর ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স আরোপের পরিকল্পনা করছে এবং কিছু দেশ তা কার্যকর করার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, এই কর ব্যবস্থা মূলত আমেরিকার প্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে টার্গেট করার জন্যই তৈরি করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তার এই ঘোষণা কেবল একটি সতর্কবার্তা নয়, বরং এটি বাণিজ্য যুদ্ধের এক নতুন সংকেত।

ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, এই ১০০ শতাংশ শুল্ক বর্তমান কোনো বাণিজ্য চুক্তির ওপর নির্ভরশীল হবে না; বরং বিদ্যমান সমস্ত চুক্তি বাতিল করে এই বাড়তি শুল্ক তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হবে। অর্থাৎ, আমেরিকা যে কোনো মূল্যে তাদের প্রযুক্তি জায়ান্টদের মুনাফা ও বাজার সুরক্ষিত রাখতে বদ্ধপরিকর। গত আগস্ট মাসেও ট্রাম্প এমন কঠোর মনোভাব দেখিয়েছিলেন এবং তখন থেকেই তিনি এই বৈষম্যমূলক কর ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সরব।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে আমেরিকার যখন নতুন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এই হুঙ্কার পরিস্থিতির জটিলতা বাড়িয়ে দিয়েছে। আগামী ৪ জুলাই সেই চুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদনের সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইউরোপ থেকে আমেরিকায় আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। স্কটল্যান্ডে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এবং ট্রাম্পের বৈঠকের পর এই চুক্তির পথ প্রশস্ত হলেও, তাতে ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্সের বিষয়টি অমীমাংসিতই থেকে গিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল কর নিয়ে ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যে চলা এই বিরোধ আগামী দিনে বড় ধরনের বাণিজ্যিক সংঘাতের রূপ নিতে পারে। ট্রাম্প যেভাবে ইউরোপীয় দেশগুলোকে ‘সরাসরি যুদ্ধের’ হুমকি দিয়েছেন, তাতে আগামী ৪ জুলাইয়ের বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আমেরিকা একদিকে যেমন তাদের প্রযুক্তিশিল্পকে বিশ্ববাজারের শীর্ষে রাখতে চায়, অন্যদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ ডিজিটাল রাজস্ব বাড়াতে সচেষ্ট। এই দুইয়ের দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত জয়ী কে হয়, তা সময়ই বলবে। তবে ট্রাম্পের এই ১০০ শতাংশ শুল্কের হুমকি বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় বড় ধরণের অস্থিরতা তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে।