স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে গরহাজির, ব্যক্তিগত ক্লিনিকে সরকারি গাড়ি! পিএমসিএইচ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিল বিহার সরকার

বিহারের স্বাস্থ্য পরিষেবা ও প্রশাসনের অন্দরমহলে বড়সড় রদবদল। পাটনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের (পিএমসিএইচ) অধ্যক্ষ ডঃ নরেন্দ্র প্রতাপ সিং-কে তাঁর অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অবিলম্বে অপসারণ করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা এবং সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের অভিযোগে তাঁকে বেতিয়ার সরকারি মেডিকেল কলেজে অধ্যাপক হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের প্রবীণ অধ্যাপক ডঃ গীতা সিনহাকে পিএমসিএইচ-এর প্রিন্সিপাল-ইন-চার্জ হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩শে জুন। ওইদিন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিশান্ত কুমারের উপস্থিতিতে পিএমসিএইচ-এ একটি পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছিল। রাজ্য সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে কলেজের অধ্যক্ষের উপস্থিতি কাম্য ছিল। কিন্তু সেখানে ডঃ নরেন্দ্র প্রতাপ সিং-এর অনুপস্থিতি সরকারি মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। বিশেষ করে মন্ত্রী স্বয়ং উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাঁর সঙ্গে দেখা না করা বা অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়াকে বিভাগীয় স্তরে শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। অনুষ্ঠান চলাকালীন বারবার ফোন করা হলেও তিনি তা ধরেননি, যার ফলে জরুরি একাডেমিক ও প্রশাসনিক আলোচনা ব্যাহত হয়।

তদন্তে নেমে স্বাস্থ্য বিভাগ যা জানতে পারে, তা ছিল আরও চাঞ্চল্যকর। জানা গিয়েছে, সরকারি ডিউটির সময় ডঃ সিং পিএমসিএইচ-এ না থেকে তাঁর ব্যক্তিগত ক্লিনিকে সময় কাটাচ্ছিলেন। কেবল তাই নয়, ওই ক্লিনিকের বাইরে স্বাস্থ্য বিভাগের সরকারি গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় পাওয়া যায়। সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ক্লিনিক চালানো এবং কর্মঘণ্টার সময় ডিউটি থেকে গাফিলতি করার বিষয়টিকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিশান্ত কুমার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলিতে শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি স্পষ্ট করেছেন, কোনো স্তরেরই আধিকারিক বা কর্মচারীর গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। ভবিষ্যতে নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে ডঃ নরেন্দ্র প্রতাপ সিং সরকারের নেওয়া এই পদক্ষেপকে ‘একতরফা’ বলে দাবি করেছেন। তিনি নিজের আত্মপক্ষ সমর্থনে জানান, অসুস্থতার কারণে তিনি উপস্থিত হতে পারেননি এবং তাঁর ছেলে বিষয়টি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিল। তবে স্বাস্থ্য দপ্তর তাঁর এই দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। বিভাগ জানিয়েছে, ডঃ সিং-এর বিরুদ্ধে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগগুলির তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে। শৃঙ্খলা রক্ষায় এই কমিটিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। ঘটনাটি এখন পাটনার চিকিৎসক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।