‘দ্য লাস্ট ডান্স’-এর মঞ্চ প্রস্তুত? মেসির আর্জেন্টিনা বনাম রোনাল্ডোর পর্তুগাল মহারণের অপেক্ষায় কোটি কোটি ভক্ত

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বের উত্তেজনা তুঙ্গে। তবে এই উত্তেজনার পারদ আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে একটি সম্ভাব্য ফুটবলীয় মহাকাব্য—লিওনেল মেসি বনাম ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর লড়াই। দুই মহাতারকা তাঁদের বর্ণময় ক্যারিয়ারে ক্লাব ফুটবল থেকে শুরু করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, সবেতেই একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁরা একে অপরের মুখোমুখি হননি কোনোদিনও। এবার সেই ঐতিহাসিক আক্ষেপ ঘুচিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে দেখা হতে পারে দুই ফুটবল জাদুকরের।

নতুন ফরম্যাটের ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল যেভাবে দাপটের সঙ্গে খেলছে, তাতে ফুটবল প্রেমীদের মনে এই স্বপ্নের ম্যাচের প্রত্যাশা জেগেছে। গাণিতিক হিসেব অনুযায়ী, দুই দল যদি রাউন্ড অফ ৩২ এবং রাউন্ড অফ ১৬-এর বাধা সফলভাবে অতিক্রম করতে পারে, তবে কোয়ার্টার ফাইনালেই দেখা মিলবে আর্জেন্টিনা বনাম পর্তুগাল ম্যাচের। যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন মুহূর্ত হয়ে থাকবে।

ফুটবল প্রেমীদের কাছে এটি কেবল একটি ম্যাচ নয়, এটি হতে পারে দুই মহাতারকার ‘দ্য লাস্ট ডান্স’। বিশ্বকাপ ২০২৬-এ দুজনেই রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে। মেসি ইতিমধ্যে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক এবং অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে দুই গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে, ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোও পিছিয়ে নেই। উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে এবং ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র।

আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল উভয় দেশই তাদের নিজ নিজ গ্রুপে দাপুটে পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে। আর্জেন্টিনা তাদের পরবর্তী ম্যাচে জর্ডনের মুখোমুখি হবে এবং পর্তুগাল লড়বে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে। এরপর নক-আউট পর্বের কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে তাদের। মেসি ২০২২ সালে ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ উপহার দিয়েছেন, এবার তাঁর লক্ষ্য টানা দ্বিতীয়বার ট্রফি জয়। অন্যদিকে, রোনাল্ডোর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে দেশের হয়ে সেরা সম্মান অর্জন করাই তাঁর পরম লক্ষ্য।

প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে ফুটবল বিশ্বে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই চালিয়ে আসা এই দুই কিংবদন্তি যদি সত্যিই কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হন, তবে তা বিশ্ব ক্রীড়াক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক হবে। এই ম্যাচটি কেবল একটি ফুটবল দ্বৈরথ নয়, বরং এক যুগের সমাপ্তি এবং ফুটবল ইতিহাসের শ্রেষ্ঠত্বের শেষ মহারণ হিসেবে গণ্য হবে। কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর এখন একটাই প্রার্থনা—বিশ্বকাপের মঞ্চে অন্তত একবার যেন মুখোমুখি হন মেসি ও রোনাল্ডো। তাদের সেই লড়াই দেখার অপেক্ষায় এখন রুদ্ধশ্বাস গোটা বিশ্ব।