কলকাতা পুরনিগমে ফের গ্রেফতারির ঝোড়ো হাওয়া! এবার পুলিশের জালে প্রাক্তন কাউন্সিলর তারকেশ্বর চক্রবর্তী

কলকাতা পুরনিগমের অন্দরে যেন গ্রেফতারির মরশুম চলছে। একের পর এক প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের গ্রেফতারিতে কার্যত কোণঠাসা শাসকদল। এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন ১০৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর তথা কলকাতা পুরনিগমের ১১ নম্বর বরোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান তারকেশ্বর চক্রবর্তী। এই ঘটনায় ফের একবার উত্তাল রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তারকেশ্বর চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য এবং হুমকি দেওয়ার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছিল। সার্ভে পার্ক থানায় তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়ার পরই তদন্তে নামে পুলিশ। সেই তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার তাঁকে আলিপুর আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে। সূত্রের খবর, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তাঁর হেফাজতে নেওয়ার আর্জি জানাতে পারে।
উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর থেকেই একের পর এক প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। অরিজিৎ দাস ঠাকুর, সুস্মিতা ভট্টাচার্য, স্বপন সমাদ্দার, বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত, বিশ্বজিৎ মণ্ডল, মহেশকুমার শর্মা, শচীন সিংহ এবং সুদীপ পোল্লের মতো প্রথম সারির প্রাক্তন কাউন্সিলরদের গ্রেফতারির ঘটনা ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এবার সেই দীর্ঘ তালিকায় নাম যুক্ত হলো তারকেশ্বর চক্রবর্তীর।
তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারি কেবল কলকাতাতেই সীমাবদ্ধ নেই, তা ছড়িয়ে পড়েছে ভিন রাজ্যেও। ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষকে ওড়িশার পুরী থেকে গ্রেফতার করেছিল লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। এই একের পর এক গ্রেফতারির ঘটনা কি তৃণমূলের অন্দরের কোনো গভীর সঙ্কটের ইঙ্গিত? না কি আইনি প্রক্রিয়া তার নিজস্ব গতিতেই চলছে? এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সুর চড়িয়েছে বিরোধী দল বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, এই গ্রেফতারিগুলি তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে থাকা ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম এবং অসাধু চক্রের জ্বলন্ত প্রতিফলন। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পাল্টা বক্তব্য, আইন আইনের পথে চলবে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তারকেশ্বর চক্রবর্তীর গ্রেফতারির পর এই মামলার তদন্তে নতুন কোনো চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে পারে, যা ভবিষ্যতে তৃণমূলের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে তুলবে। সব মিলিয়ে, পুরনিগমের অন্দরে বর্তমানে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।