আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ধস! আজ কি সস্তা হলো আপনার শহরের পেট্রোল-ডিজেল?

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়লেও ভারতের জ্বালানি বাজারে আপাতত কোনো বড় অস্থিরতা নেই। ২৭ জুন, সরকারি তেল বিপণন সংস্থাগুলি দেশের কোথাও পেট্রোল ও ডিজেলের দামে কোনো পরিবর্তন আনেনি। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে জ্বালানির খুচরো মূল্য কার্যত অপরিবর্তিত রয়েছে। শেষবার ২৫ মে লিটারপিছু পেট্রোলের দাম ২.৬১ টাকা এবং ডিজেলের দাম ২.৭১ টাকা বৃদ্ধির পর থেকে আর কোনো সংশোধন করা হয়নি।আজ দেশের বড় শহরগুলিতে জ্বালানির দর:শহরপেট্রোল (প্রতি লিটার)ডিজেল (প্রতি লিটার)কলকাতা₹১১৩.৫১₹৯৯.৮২দিল্লি₹১০২.১২₹৯৫.২০মুম্বই₹১১১.২১₹৯৭.৮৩চেন্নাই₹১০৭.৭৭₹৯৯.৫৫নয়ডা₹১০২.১২₹৯৭.৫৬লখনউ₹১০১.৮৯₹৯৫.৩৬চণ্ডীগড়₹১০১.৫১₹৮৯.৪৭পাটনা₹১১৩.৩৭₹৯৯.৩৬আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় পতনসাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড়সড় ধস নেমেছে। গত এক সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১০.৮৬% এবং WTI ক্রুডের দাম প্রায় ৯.৬২% কমেছে। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপিছু ৭২.৬০ ডলারে এবং WTI ক্রুড ৬৯.২৩ ডলারে ট্রেড করছে।দাম কমছে না কেন?আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও দেশে তার প্রভাব সরাসরি পড়ে না কেন, এই প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মনে দীর্ঘদিনের। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভারতীয় তেল বিপণন সংস্থাগুলি প্রতিদিন আন্তর্জাতিক দরের ভিত্তিতে খুচরো মূল্য নির্ধারণ করে না। বরং গত ১৫ দিন থেকে এক মাসের গড় মূল্য, আমদানি খরচ, কর এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ের ওপর ভিত্তি করে দাম ঠিক করা হয়। ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম দীর্ঘস্থায়ীভাবে নিম্নমুখী থাকলেই খুচরো বাজারে তার প্রতিফলন ঘটা সম্ভব।দাম কমলে উপকার কী?ভারত তার প্রয়োজনের প্রায় ৮৮ শতাংশ অপরিশোধিত তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশের আমদানি বিল কমে, মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং পরিবহন, বিমান চলাচল, লজিস্টিক্স ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের (FMCG) শিল্পে বড়সড় সুরাহা পাওয়া যায়। এমনকি ভারতীয় মুদ্রার ওপরও চাপ কিছুটা লাঘব হয়।ভবিষ্যতে কি দাম কমবে?বিশেষজ্ঞদের আশা ছিল, অপরিশোধিত তেলের দাম নিম্নমুখী থাকলে তেল কোম্পানিগুলি দাম কমানোর কথা বিবেচনা করবে। কিন্তু সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা—বিশেষ করে ইরানি ঘাঁটিতে আমেরিকার নতুন করে হামলার ঘটনায় সেই আশায় বড়সড় ধাক্কা লেগেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই নতুন উত্তপ্ত পরিস্থিতি আগামী দিনে জ্বালানির দাম কমার সম্ভাবনাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। আপাতত সাধারণ মানুষের স্বস্তির খবর বলতে—দাম বাড়ছে না, তবে কমার লক্ষণও অধরা।