স্বপ্ন ভেঙে চুরমার: দুই সন্তান আর প্রতিবন্ধী বাবাকে নিয়ে দিশাহারা সুমনের পরিবার, চাইছেন বিচার!

শনিবার বাড়ি ফেরার কথা ছিল শ্যামনগরের বাসিন্দা সুমন কর্মকারের। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, বাড়ি ফিরল তাঁর নিথর দেহ। তারাতলায় ভয়াবহ গোডাউন বিপর্যয়ে প্রাণ হারালেন সুমন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পরিবারের কাছে এই দুঃসংবাদ পৌঁছাতেই আকাশ ভেঙে পড়ে শ্যামনগরের ওই পরিবারটিতে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতোই মঙ্গলবার রাতে কাজের সন্ধানে তারাতলার ওই গোডাউনে গিয়েছিলেন সুমন। কিন্তু বুধবারের ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বিপর্যয়স্থলে তল্লাশি চালানোর পর অবশেষে উদ্ধার হয় একটি দেহ। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই ছিল যে, দেহটি এতটাই ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছিল যে প্রথমে তাঁকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। শেষমেশ সুমনের হাতের আঙুলে থাকা একটি আংটি দেখেই পরিবারের সদস্যরা তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করেন।

শোকস্তব্ধ সুমনের বোন সীমা কর্মকার আক্ষেপ করে বলেন, “সুমনই ছিল আমাদের সংসারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। বাবা শারীরিক প্রতিবন্ধী। সুমন ছাড়া আমাদের আর কেউ নেই। এখন কীভাবে সংসার চলবে, তা ভেবেই কূল পাচ্ছি না।” সরকারের কাছে তাঁর কাতর আবেদন, “আমাদের আর্থিক সাহায্য এবং চাকরির ব্যবস্থা করা হোক। শুধু আমাদের নয়, এই দুর্ঘটনায় মৃত সবার পরিবারের পাশে দাঁড়াক সরকার। এছাড়া দোষী যেই হোক, যত বড় মাথা হোক না কেন, তাদের টেনেহিঁচড়ে বের করে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হোক।”

অন্যদিকে, স্বামীর অকাল মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন সুমনের স্ত্রী শিখা কর্মকার। দুই সন্তানকে নিয়ে এখন কী হবে—এই চিন্তায় দিশাহারা তিনি। শিখাদেবী বলেন, “কয়েক দিন আগেই নতুন কাজে যোগ দিয়েছিল ও। পরিবারে দুই ছেলে আর আমরা দুজনে ছিলাম। এখন তো আয়ের আর কেউ নেই। মুখ্যমন্ত্রী যদি আমাদের পাশে দাঁড়ান, তবেই হয়তো খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে পারব। আমাদের মতো যেন আর কোনো পরিবারের এমন মর্মান্তিক পরিণতি না হয়, দোষীদের চরম শাস্তি চাই।”

তারাতলা বিপর্যয়ের আজ চতুর্থ দিন। এখনো ঘটনাস্থলে চলছে উদ্ধারকাজ। ভেঙে পড়া লোহার বিমের নিচে আর কেউ চাপা পড়ে আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা। হাসপাতাল সূত্রের খবর, এই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬। এর মধ্যে একজনের দেহ এখনো শনাক্ত করা যায়নি। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৩ জন। গতকাল ১৭ জনের মধ্যে ৪ জনকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কোনো প্রাণের স্পন্দন লুকিয়ে আছে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।