অযোধ্যায় অনুদান কেলেঙ্কারি: ৩ বছরের অডিট রিপোর্টে ভয়াবহ অনিয়মের ইঙ্গিত, কাঠগড়ায় ট্রাস্ট

ভক্তি ও বিশ্বাসের পীঠস্থান অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদানের অর্থ চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তোলপাড়। বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর প্রাথমিক তদন্তে যে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, তা রীতিমতো অস্বস্তিতে ফেলেছে রাম মন্দির ট্রাস্টের কর্তাদের।
৭০ বার চুরির চেষ্টা: তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে নিশ্চিত হয়েছেন যে, গত ২৭ এপ্রিল থেকে ৫ জুনের মধ্যে মন্দিরের অনুদান চুরি করার অন্তত ৭০টি প্রচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। সূত্রের খবর, মনীশ কুমার যাদব নামে এক ব্যক্তিকে সিসিটিভি ফুটেজে একাধিকবার অপরাধমূলক কাজে যুক্ত থাকতে দেখা গেলেও, সেই সময় ট্রাস্টের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যা ‘সর্ষের মধ্যেই ভূত’ থাকার সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করেছে।
অডিট রিপোর্টে ভয়াবহ গাফিলতি: শুধুমাত্র চুরি নয়, অনুদান সংগ্রহের গোটা প্রক্রিয়াতেই ছিল চরম অব্যবস্থা। গত তিন বছরের (২০২২-২৫) অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা (Internal Audit) রিপোর্টে আর্থিক লেনদেনের নথি সংরক্ষণ ও তদারকির ক্ষেত্রে একাধিক গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়েছে। এসআইটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী:
আর্থিক হিসাবরক্ষণে ছিল চরম বিশৃঙ্খলা।
অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত দুর্বল।
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাদের জবাবদিহিতার অভাব ছিল স্পষ্ট।
গ্রেফতার ও রাজনৈতিক জলঘোলা: এই মামলায় এখনও পর্যন্ত পুলিশ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের মধ্যে ট্রাস্টের বড় কর্তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরাও রয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত এসআইটি তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং আগামী দিনে আরও গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি: এই ইস্যু নিয়ে বিরোধীদের রাজনীতির অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সাফ জানিয়েছেন, “অযোধ্যা আমাদের বিশ্বাস ও সনাতন ধর্মের প্রতীক। এর মর্যাদা নষ্ট করার চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। রিপোর্ট হাতে আসার পরই দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষায় এবং ভক্তদের বিশ্বাস অটুট রাখতে ট্রাস্টের অন্দরে কত বড় মাপের দুর্নীতি বাসা বেঁধেছিল, তা এখন সিটের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের অপেক্ষায়।