রাজামৌলির শ্যুটিং মানেই অগ্নিপরীক্ষা! ১০০ টেক দিতে গিয়ে নাজেহাল পৃথ্বীরাজ ও মহেশ বাবু

ভারতীয় সিনেমার অন্যতম সফল এবং বিতর্কিত পরিচালক এস এস রাজামৌলি। তাঁর ছবির মেকিং মানেই যে নিখুঁত কারিগরি আর দীর্ঘ পরিশ্রমের স্বাক্ষর, তা নতুন করে বলার কিছু নেই। তবে রাজামৌলির সেটে কাজ করার অভিজ্ঞতা যে রীতিমতো রোমাঞ্চকর এবং চ্যালেঞ্জিং, তা এবার প্রকাশ্যে আনলেন দক্ষিণী তারকা পৃথ্বীরাজ সুকুমারন। আসন্ন বিগ বাজেট ছবি ‘বারাণসী’-র শ্যুটিং করতে গিয়ে পরিচালক রাজামৌলির খুঁতখুঁতে স্বভাবের সাক্ষী হলেন খোদ অভিনেতা।
একটি সাক্ষাৎকারে পৃথ্বীরাজ জানান, ছবির একটি বিশেষ দৃশ্যের শ্যুটিং করতে গিয়ে তিনি এবং সুপারস্টার মহেশ বাবু রীতিমতো হিমশিম খেয়েছিলেন। পৃথ্বীরাজের কথায়, “আমি অতিরঞ্জিত করছি না। একটি দৃশ্যের শট নিতে গিয়ে প্রায় ১০০ বার পর্যন্ত আমাদের টেক দিতে হয়েছিল। ৯৪তম নাকি ৯৭তম টেক—সেটা মনে নেই, কিন্তু মহেশ আর আমি এটা নিয়ে শুটিংয়ের ফাঁকে হাসাহাসি করছিলাম। সকাল থেকে শ্যুট শুরু হয়েছিল, এমনকি লাঞ্চ ব্রেক আসার পরও শট মনের মতো হয়নি।”
পরিচালকের জেদ সম্পর্কে বলতে গিয়ে পৃথ্বীরাজ আরও যোগ করেন, “দুপুরের খাবারের প্লেটে চামচ তোলার ঠিক আগেই স্যার (রাজামৌলি) বললেন, শট প্রস্তুত। আমরা আবার সেটে ফিরে গেলাম। সন্ধ্যা ৬টা ৩৭ মিনিট পর্যন্ত টানা শ্যুটিং চলল। আমাদের এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার বারবার ইশারা করছিলেন প্যাক আপ করার জন্য, কারণ সময় পেরিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু রাজামৌলি স্যারের পছন্দ না হওয়ায় তিনি শান্তভাবে বললেন, ঠিক আছে, আজ প্যাক আপ করি, কাল সকালে আবার হবে।”
রাজামৌলির কাজের প্রতি নিষ্ঠা নিয়ে বলতে গিয়ে পৃথ্বীরাজ মুগ্ধ। তিনি জানান, ‘বারাণসী’-র সেটে লাঞ্চ ব্রেক মাত্র ২০ মিনিটের। পৃথ্বীরাজের মতে, রাজামৌলিকে দেখে মনে হয় যেন তিনি এমন একজন নবীন পরিচালক, যিনি তাঁর প্রথম ছবি বানানোর সুযোগ পেয়েছেন এবং নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য মরিয়া। সেটে সবার আগে আসা এবং সবার শেষে ফিরে যাওয়া—রাজামৌলির এই শৃঙ্খলাবোধ পৃথ্বীরাজকে বিস্মিত করেছে। এত পরিশ্রমী পরিচালক তিনি আগে কখনও দেখেননি।
উল্লেখ্য, ‘বারাণসী’ একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প, যেখানে মহেশ বাবু, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া এবং পৃথ্বীরাজ সুকুমারনকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে। পৌরাণিক উপাদান এবং টাইম ট্রাভেলের অদ্ভুত মিশেলে তৈরি এই ছবি ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম বড় মাইলফলক হতে চলেছে। রাজামৌলির এই নিখুঁত হওয়ার লড়াই আদতে ছবির গুণমানকে কোথায় নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষায় দর্শক।