এক নিমেষে বদল সমীকরণ! তৃণমূলের অনুপস্থিতিতে জেলা পরিষদের দখল নিল বিজেপি

দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদে এল বড়সড় রাজনৈতিক পরিবর্তন। শুক্রবার এক নাটকীয় পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে ঘাসফুল শিবিরের হাতছাড়া হলো এই গুরুত্বপূর্ণ জেলা পরিষদের ক্ষমতা। নতুন সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষে জেলার ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ এখন পুরোপুরি বিজেপির হাতে। তৃণমূলের অনুপস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে গেরুয়া শিবির যে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে, তা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদে মোট আসন সংখ্যা ৭০। গত নির্বাচনের পর তৃণমূলের দখলে ছিল ৫৬টি আসন, অন্যদিকে বিজেপি পেয়েছিল ১৪টি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুই সদস্যের মৃত্যুতে সদস্য সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৬৮-এ। রাজনৈতিক পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের জেরে তৎকালীন সভাধিপতি উত্তম বারিক এবং সহ-সভাধিপতি সুহাসিনী কর তাঁদের পদ থেকে ইস্তফা দিলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে থাকলেও, শেষ পর্যন্ত শুক্রবারের সাধারণ সভায় তৃণমূলের কোনো সদস্যই উপস্থিত হননি।

এদিন মোট ৬৪ জন সদস্যের উপস্থিতিতে সভা পরিচালিত হয়। তৃণমূলের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব অত্যন্ত কৌশলে নিজেদের প্রতিনিধিদের সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতি হিসেবে নির্বাচিত করতে সক্ষম হয়। বিরোধী দল বিজেপির এই জয়লাভকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা রাজ্যের শাসকদলের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখছেন।

দীর্ঘদিন এই জেলা তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত প্রভাবাধীন এই জেলায় এভাবে ক্ষমতা হারানো তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতার প্রতিফলন বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। অন্যদিকে, বিজেপি এই ঘটনাকে তাদের বর্ধিত সাংগঠনিক শক্তি এবং জনগণের আস্থার জয় হিসেবে প্রচার করছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই মুহূর্তে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও, জেলা পরিষদের দখল হারিয়ে যে শাসকদল ব্যাকফুটে চলে গেল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই জয় আগামী দিনে পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনীতির মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দিতে পারে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।