বিয়ে থেকে উত্তরাধিকার—সবাইকে এক ছাতার তলায় আনতে কি আসছে UCC? নড়েচড়ে বসল নবান্ন

নির্বাচনের ইস্তাহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে হাঁটতে চলেছে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সূত্র থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, চলতি বিধানসভা অধিবেশনেই রাজ্যে ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’ বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) বিল পেশ করার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে সরকার। উত্তরাখণ্ড, গুজরাট ও আসামের পর এবার পশ্চিমবঙ্গের পালা। দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বের ইঙ্গিত, আগামী সপ্তাহেই বিধানসভায় এই বহুচর্চিত বিলটি পেশ করা হতে পারে, যা নতুন সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় একেবারে ওপরের দিকে রয়েছে।
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কী?
ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মূল লক্ষ্য হলো ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে রাজ্যের সকল নাগরিকের জন্য বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন আইনি কাঠামো তৈরি করা। এর সমর্থকরা বলছেন, এর ফলে ধর্মভিত্তিক ব্যক্তিগত আইনের কারণে তৈরি হওয়া বৈষম্য দূর হবে এবং আইনের চোখে সকল নাগরিক সমান মর্যাদা পাবেন।
প্রস্তাবিত বিলে কী কী চমক থাকছে?
বিজেপি সূত্রে খবর, প্রস্তাবিত বিলের খসড়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর আইনি সংস্থান রাখা হয়েছে:
বিবাহের আইনি বয়স: সকল সম্প্রদায়ের জন্য বিয়ের একটি অভিন্ন ন্যূনতম আইনি বয়স নির্ধারণ করা হবে।
রে🔹 Bengali Version:
পরিবর্তনের বঙ্গে এবার UCC-র পথে বিজেপি সরকার! ইস্তাহারের প্রতিশ্রুতি পূরণে আসছে ঐতিহাসিক বিল
সব ধর্মের জন্য এক আইন? রাজ্যে ইউনিফর্ম সিভিল কোড চালুর তোড়জোড়, কাঁপছে রাজনৈতিক মহল
বিয়ে থেকে উত্তরাধিকার—সব নিয়ম হবে এক! রাজ্যে UCC বিল নিয়ে নবান্নের বড় চমক, কী থাকছে খসড়ায়?
নির্বাচনী ইস্তাহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, রাজ্যের প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামোয় বড়সড় সংস্কার আনতে চলেছে নতুন বিজেপি সরকার। সরকারি সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহেই রাজ্যের বিধানসভায় পেশ করা হতে চলেছে বহুচর্চিত ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ (UCC) বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল। উত্তরাখণ্ড, গুজরাট ও আসামের সাফল্যের পর এবার পশ্চিমবঙ্গও সেই একই পথে হাঁটতে বদ্ধপরিকর।
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা UCC আসলে কী?
ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মূল লক্ষ্য হলো ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে রাজ্যের সকল নাগরিকের জন্য বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন আইনি কাঠামো তৈরি করা। এর ফলে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত আইনি জটিলতা ও বৈষম্য দূর হবে বলে মনে করছে সরকার।
প্রস্তাবিত বিলের মূল আকর্ষণ:
বিজেপি বিধায়কদের দাবি অনুযায়ী, এই বিলে বেশ কিছু যুগান্তকারী পরিবর্তনের সংস্থান রাখা হয়েছে:
বিয়ে: সব সম্প্রদায়ের জন্য বিয়ের ন্যূনতম বয়স অভিন্ন করা হবে এবং রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হবে।
বহুবিবাহ: বহুবিবাহ প্রথা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে।
মহিলাদের অধিকার: সম্পত্তি ও উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে মহিলাদের সমান অধিকার সুনিশ্চিত করা হবে।
লিভ-ইন সম্পর্ক: এই ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কঠোর আইনি নজরদারি আনা হচ্ছে। সম্পর্কের শুরু ও অবসানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক হবে।
বিবাহবিচ্ছেদ: প্রথাগত বা ধর্মীয় নিয়মের বদলে একটি সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো আনা হবে, যেখানে স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের জন্যই সমান সুরক্ষাকবচ থাকবে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব:
রাজ্যের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলা যেমন—মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুরে এই বিলের প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল জল্পনা শুরু হয়েছে। সরকারি পক্ষের দাবি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারীদের একটি বড় অংশ এই বিলের সম্ভাবনাকে স্বাগত জানাচ্ছেন। তাঁদের মতে, এর ফলে বিবাহ ও সম্পত্তিগত অধিকারে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা থেকে মুক্তি মিলবে। তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই বিলের বিরোধিতায় সরব হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। এখন বিধানসভার অধিবেশনে এই বিল পেশ হওয়ার পর কী ধরনের উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, সেটাই দেখার বিষয়। সরকারের লক্ষ্য স্পষ্ট—আইনের চোখে সমতা ও সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠা করা।