‘দোষী হলে মেয়েকেও খাদ থেকে ফেলে দিন!’ কেতন খুনে বিস্ফোরক সিয়ার পরিবার

পুণের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীর ছেলে কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তোলপাড় চলছে। অভিযুক্ত সিয়া গোয়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নিজের হবু বরকে খুনের ছক কষেছিলেন তিনি। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর প্রথমবার মুখ খুললেন সিয়া গোয়েলের বাবা প্রবীণ গোয়েল এবং মা পূজা গোয়েল। মেয়ের বিরুদ্ধে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর এবং স্পষ্ট।

মেয়ের এহেন নৃশংস কাজ মেনে নিতে পারছেন না সিয়ার বাবা-মা। ঘটনার পর থেকেই মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছেন তাঁরা। সিয়ার বাবা প্রবীণ গোয়েল অসুস্থ হয়ে বর্তমানে আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল থেকেই সংবাদমাধ্যমের সামনে তাঁরা জানালেন, বিচার প্রক্রিয়ায় তাঁরা পূর্ণ সহযোগিতা করবেন এবং দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁদের মেয়ের কোনো রেহাই পাওয়া উচিত নয়।

সিয়ার মা পূজা গোয়েল অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “এই ঘটনায় যেই দোষী হোক না কেন, তাকে কঠোর শাস্তি পেতে হবে। সে আমার মেয়ে হলেও তার পক্ষে কেউ দাঁড়াবে না। যদি তদন্তে প্রমাণ হয় যে সিয়া এই খুনের সঙ্গে যুক্ত, তবে কেতনকে যেখান থেকে খাদে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, ঠিক সেই জায়গা থেকেই তাকেও ফেলে দেওয়া উচিত।” এই বক্তব্য ইতিমধ্যেই নেটদুনিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রবীণ গোয়েল এই ঘটনায় গভীর দুঃখপ্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “পরিস্থিতি এতদূর গড়াবে তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। যদি সিয়ার প্রেমের সম্পর্ক বা চেতন চৌধুরী নামের ওই যুবকের বিষয়ে আমরা আগে জানতে পারতাম, তবে মেয়েকে অবশ্যই বোঝাতাম বা কঠোর সিদ্ধান্ত নিতাম। হয়ত এই ঘটনা এড়ানো যেত।” চেতন চৌধুরী প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমি চেতন চৌধুরীর মুখ কখনও দেখিনি, তাঁর সঙ্গে সিয়ার সম্পর্কের কথাও আমাদের অগোচরে ছিল।”

কেতনের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল গোয়েল পরিবারের। প্রবীণ গোয়েল জানান, কেতনের বাবা দেবীচাঁদ আগরওয়াল নিয়মিত তাঁদের দোকানে আসতেন। তিনি অত্যন্ত মার্জিত এবং ভালো মানুষ ছিলেন। প্রবীণ আক্ষেপ করে বলেন, “এই ঘটনার ফলে আমরা শুধু একটি ভালো পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কই হারালাম না, বরং কেতনের মতো এক চমৎকার তরুণকেও হারালাম।”

উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গের ৪শ ফুট গভীর খাদ থেকে উদ্ধার হয় কেতনের নিথর দেহ। তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে যে, চেতন চৌধুরীর সঙ্গে সিয়ার প্রেমের সম্পর্কের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড। পুরো রাজ্য এখন এই মামলার বিচারের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। অভিযুক্ত সিয়ার পরিবারের এই স্পষ্ট অবস্থান বিচার প্রক্রিয়ার গতিপ্রকৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।