রেলে ঐতিহাসিক মাইলফলক! দুর্গম পাহাড়ি পথে বিদ্যুতিকরণের কাজ শেষ, শীঘ্রই চলবে ইলেকট্রিক ট্রেন

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (NFR) তাদের বৈদ্যুতিকীকরণের লক্ষ্যমাত্রায় এক ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করল। সম্প্রতি হাফলং গ্রিড সাব-স্টেশন (GSS) থেকে নিউ হাফলং ট্র্যাকশন সাব-স্টেশন (NHL G TSS) পর্যন্ত ১৩২ কেভি ট্রান্সমিশন লাইনটি সফলভাবে চালু করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি দুর্গম পাহাড়ি পথে বৈদ্যুতিক ট্রেন চলাচলের স্বপ্নকে বাস্তবায়নের পথে এক বিরাট মাইলফলক। বরাক উপত্যকা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযোগকারী এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রেল লিঙ্কে ট্র্যাকশন পাওয়ার সাপ্লাই ইনফ্রাস্ট্রাকচারের কাজ এখন সম্পূর্ণ।
প্রকল্পটি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের মতে, বাধ্যতামূলক সুরক্ষা পরীক্ষা এবং পরীক্ষামূলক ট্রায়াল রান সম্পন্ন হওয়ার পর, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই সেকশনে বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনের ট্রেন চলাচল শুরু হবে। লামডিং-বদরপুর হিল সেকশনের এই বৈদ্যুতিকীকরণ কেবল সময়ই বাঁচাবে না, বরং পরিচালনগত দক্ষতায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমে আসায় একদিকে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ যেমন হ্রাস পাবে, তেমনি পণ্য ও যাত্রী পরিবহণের ক্ষমতাও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এটি পরিবেশবান্ধব রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এন. এফ. রেলওয়ের এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে, বৈদ্যুতিকীকরণের মতো প্রযুক্তিগত উন্নতির পাশাপাশি যাত্রীসেবার দিকেও বিশেষ নজর দিয়েছে নর্থ-ইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ে। বার্ষিক অম্বুবাচী মেলা উপলক্ষে কামাখ্যা মন্দিরে আগত বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীদের সহায়তায় রেল কর্তৃপক্ষ একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। কামাখ্যা রেলওয়ে স্টেশনে রেলের উদ্যোগে তীর্থযাত্রীদের জন্য বিশেষ খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্তদের স্বস্তি প্রদানের লক্ষ্যে এই মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
মেলা চলাকালীন যাত্রীদের ভিড় সামলানো ও দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য ‘এন. এফ. রেলওয়ে ভারত স্কাউটস অ্যান্ড গাইডস’-এর সদস্যদের প্রধান রেলওয়ে স্টেশনগুলিতে মোতায়েন করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকরা তীর্থযাত্রীদের সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছেন, যাতে তাঁদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আরও সুরক্ষিত ও আরামদায়ক হয়। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং যাত্রীসেবার এই সমন্বয় উত্তর-পূর্ব ভারতে রেল পরিষেবাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। রেলের এই দ্বিমুখী তৎপরতা সাধারণ যাত্রী এবং পুণ্যার্থী—উভয়ের কাছেই সমাদৃত হচ্ছে।