শিল্পক্ষেত্রে স্বস্তি, বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহে বিধিনিষেধ তুলল কেন্দ্র, সচল হরমুজ প্রণালী

পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মেঘ কাটতেই ভারতবাসীর জন্য এল স্বস্তির খবর। শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এলপিজি (Non-Domestic Packed LPG) সরবরাহের ওপর জারি করা সমস্ত বিধিনিষেধ আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেওয়ার কথা ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। এর ফলে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলি আবারও যুদ্ধের পূর্ববর্তী সময়ের মতো স্বাভাবিক গতিতে তাদের উৎপাদন কার্যক্রম চালাতে পারবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘর্ষের জেরে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। ভারতের অপরিশোধিত তেল এবং এলপিজি আমদানির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত এই জলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে পরিস্থিতির মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার ‘অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন’-এর অধীনে বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে বাধ্য হয়েছিল। পাশাপাশি, ঘাটতি মোকাবিলায় নির্দিষ্ট গ্যাস (C3 ও C4) শুধুমাত্র এলপিজি উৎপাদনের কাজেই ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তবে গত ১৭ জুন ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ১৪ দফা সম্বলিত এক গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হতে শুরু করে। এই মউ-এর ফলে হরমুজ প্রণালী আবারও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনে ভারতগামী ১১টি বড় জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারতের পতাকাবাহী তিনটি বিশাল তেলবাহী ট্যাঙ্কার, যেখানে মোট ৮ লক্ষ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল রয়েছে। এছাড়াও বিদেশি পতাকাবাহী এলপিজি জাহাজ এবং সার বহনকারী বাল্ক কেরিয়ারগুলিও নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে। বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতীয় জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।
এই ইতিবাচক পরিবর্তনের পরই তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলিকে (OMCs) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতের গ্রাহকদের জন্য এলপিজি সরবরাহ আবার আগের মতো স্বাভাবিক করা হয়। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, শিল্প গ্রাহকরা এখন থেকে সংকটের আগের সময়ের মতো ব্যবহারের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত এলপিজি সরবরাহের অনুমতি পাবেন। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশের শিল্প পরিকাঠামো ও উৎপাদন ব্যবস্থাকে আবারও সচল করে তুলবে।
হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে যাওয়া ভারতের মতো শক্তি-আমদানিকারক দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় স্বস্তি। কেন্দ্রীয় সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ একদিকে যেমন বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা দূর করল, অন্যদিকে শিল্প মহলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। যুদ্ধের ঝাপটা সামলে এখন ভারতীয় শিল্পখাত আবারও পূর্ণোদ্যমে ঘুরে দাঁড়াতে প্রস্তুত।