১৭ কোটির বিয়ে বাতিল করতে প্রেমিককে নিয়ে হবু বরকে খুন! সিয়ার স্বীকারোক্তি শুনে শিউরে উঠল পুলিশ

মহারাষ্ট্রের আলোচিত কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই প্রকাশ্যে আসছে অবিশ্বাস্য সব তথ্য। ১৭ কোটি টাকা খরচে রাজকীয় বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল, অতিথিদের আনা নেওয়ার জন্য তৈরি ছিল প্রাইভেট জেট—এমন বিলাসবহুল আয়োজনের মাঝেই কীভাবে এমন নৃশংস খুনের পরিকল্পনা করলেন হবু কনে সিয়া গোয়াল? সিয়াকে জেরা করে তদন্তকারী কর্মকর্তারা যা জেনেছেন, তা যে কোনো মানুষের শিরদাঁড়ায় শীতল স্রোত বইয়ে দেওয়ার মতো।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, সিয়া গোয়াল জেরার মুখে স্বীকার করেছেন, তিনি কেতন আগরওয়ালকে কোনোভাবেই বিয়ে করতে চাননি। সিয়ার ভাষ্যমতে, তিনি দীর্ঘ দিন ধরেই চেতন চৌধুরী নামে এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে ছিলেন। বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর কেতনকে তিনি বারবার সম্পর্ক ভাঙার অনুরোধ করেছিলেন। সিয়ার অভিযোগ, কেতন উল্টো তাঁকে ভয় দেখিয়ে বলেছিলেন, তাঁর পরিবারের প্রভাব ও বিত্ত এত বেশি যে, সিয়া চাইলেও এই বিয়ে এড়াতে পারবেন না। তবে এই দাবি কতটা সত্য, তা যাচাই করতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
ঘটনার গভীরে গেলে দেখা যায়, এই খুনের পরিকল্পনা ছিল অত্যন্ত ঠান্ডা মাথার। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কেতন ও সিয়ার বাগদান হয়। নভেম্বরে জয়পুরের একটি প্রাসাদে রাজকীয়ভাবে বিয়ের আয়োজন ছিল। কিন্তু সেই আয়োজনের আড়ালেই চলছিল খুনের ছক। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ১৪ জুন লোহাগড় দুর্গে কেতনকে প্রথমবার খাদে ফেলে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেদিন ভাগ্যক্রমে একটি ঝোপ ধরে বেঁচে যান কেতন। সেই সময় ঘটনার মোড় ঘোরাতে সিয়া সাপের ভয় পাওয়ার নাটক করেন এবং কেতনকে জড়িয়ে ধরেন যাতে কেউ সন্দেহ না করে।
এর ঠিক চার দিন পর, ১৮ জুন, সিয়া আবার কেতনকে সেই দুর্গের একই স্থানে নিয়ে যান। পুলিশের অভিযোগ, সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে ছিলেন প্রেমিক চেতন চৌধুরী। সুযোগ বুঝে দুজনে মিলে কেতনকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে গভীর খাদে ফেলে দেন। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান কেতন। তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে যে, যদি এই ‘প্ল্যান বি’ ব্যর্থ হতো, তবে তারা ‘প্ল্যান সি’ অর্থাৎ তৃতীয়বারের মতো খুনের চেষ্টাও তৈরি রেখেছিলেন।
প্রাথমিকভাবে সিয়া পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে, ছবি তুলতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে কেতন খাদে পড়ে গিয়েছেন। সেই ভিত্তিতেই একটি অপমৃত্যু বা অ্যাক্সিডেন্টাল ডেথ রিপোর্ট (ADR) নথিভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্তকারীদের সন্দেহের মূলে ছিল ঘটনার পর সিয়ার অস্বাভাবিক আচরণ। গভীর শোকের বদলে তাঁর উদাসীনতা দেখে পুলিশ ফোনে আড়ি পাতে। সেখানেই মেলে আসল সূত্র। তদন্তে দেখা গেছে, গত সাত মাসে সিয়া ও চেতন ২,০০৪ বার ফোনে কথা বলেছেন, যার মোট সময় প্রায় ২৩৮ ঘণ্টা। ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে অর্থাৎ বিয়ের প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, তখন থেকেই তাদের এই গোপন যোগাযোগ ছিল। বর্তমানে দুই অভিযুক্তই পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং তাদের অপরাধ স্বীকারোক্তি তদন্তের মোড় সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে।