৪টি কফি, ১টি ইউটিউব ভিডিও, আর তারপরই মৃত্যু! কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পুলিশের হাতে

পুনের তরুণ রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় উন্মোচিত হলো এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের চিত্র। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হয়েছিল কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে। হবু স্ত্রী সিয়া গোয়েল এবং তার প্রেমিক চেতন চৌধুরী মিলে পুনের এক নামী ক্যাফেতে বসে মাত্র এক ঘণ্টার পরিকল্পনায় কেতনকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, গত ১৭ জুন বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে পুনের একটি ক্যাফেতে সিয়া ও চেতন প্রবেশ করে। সেখানে দীর্ঘ প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে খুনের চূড়ান্ত ছক। পুলিশের কাছে আসা তথ্যে জানা গেছে, সিয়া নিজেই তার প্রেমিক চেতনের সঙ্গে লোহাগড় দুর্গের খুঁটিনাটি শেয়ার করেছিল। কেবল পরিকল্পনাই নয়, তারা ইউটিউব ভিডিও দেখে রেইকি করেছিল যে, দুর্গের ঠিক কোন স্থানটি থেকে ধাক্কা দিলে কেতনকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। এর ঠিক পরদিন, ১৮ জুন ট্রেকিংয়ের অছিলায় সিয়া কেতনকে নিয়ে যায় সেই মৃত্যুফাঁদে।

কেতন আগরওয়াল ছিলেন ‘সাকসেস গ্রুপ’-এর ডিরেক্টর। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সিয়ার সঙ্গে তাঁর বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল এবং আগামী নভেম্বরে উদয়পুরে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে তাঁদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। মৃত্যুর দিন সিয়া পুলিশকে জানিয়েছিল যে, দুর্গের প্রান্তে ছবি তোলার সময় বাতাসের ধাক্কায় পা পিছলে কেতন খাদে পড়ে যান। কেতনের পরিবার প্রথমে বিষয়টি দুর্ঘটনা বলেই মেনে নিয়েছিল। কিন্তু সিয়ার বয়ানের অসঙ্গতি এবং মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্রেস করার পরই পুলিশের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে।

তদন্তে পুলিশের হাতে এসেছে তিনটি প্রধান প্রমাণ:
প্রথমত, সিয়ার বয়ানের ক্রমাগত পরিবর্তন। সিয়া প্রথমে ছবি তোলার কথা বললেও, কেতনের ফোন থেকে লোহাগড় দুর্গের একটিও ছবি উদ্ধার হয়নি। দ্বিতীয়ত, দুর্গের সিসিটিভি ফুটেজে এক রহস্যময় হুডি পরা যুবকের উপস্থিতি। সিয়াকে বারবার ওই যুবকের দিকে ইশারা করতে দেখা যায়, যার পাল্টা জবাব দিচ্ছিল ওই ব্যক্তি। তৃতীয়ত, ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে ওই হুডি পরা ব্যক্তি আর কেউ নয়, সিয়ার প্রেমিক চেতন চৌধুরী। মাত্র ৪৮ মিনিটের জন্য দুর্গে এসে চেতন যে এই কাণ্ড ঘটিয়ে চম্পট দিয়েছিল, তা সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে।

বর্তমানে চেতন চৌধুরীকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল এভিডেন্স এবং ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুনে গ্রামীণ পুলিশ। এক মাস ধরে বিয়ের প্ল্যান করা কেতন হয়তো জানতেন না, তাঁর হবু স্ত্রী আর তাঁর প্রেমিক মিলে মৃত্যুর এক চূড়ান্ত ছক কষে রেখেছে।