আওয়ামী লীগের জন্য দরজা খুলল নির্বাচন কমিশন! কোন শর্তে লড়বেন শেখ হাসিনার দলের নেতারা?

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অভাবনীয় ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন দল আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও, আসন্ন পঞ্চায়েত ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলটির নেতাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের এই শর্তসাপেক্ষ ছাড় ঘিরে দেশজুড়ে জল্পনা তুঙ্গে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ নেতারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন, তবে তাঁদের মেনে চলতে হবে কঠোর কিছু নিয়ম।

কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যে সব আওয়ামী লীগ নেতা নির্বাচনে লড়তে ইচ্ছুক, তাঁদের একটি হলফনামা জমা দিতে হবে। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ করতে হবে যে, তাঁরা কোনো নিষিদ্ধ বা দেশবিরোধী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন। এই হলফনামা জমা দেওয়ার পরই কেবল প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হবে। নির্বাচন কমিশনের এই বিশেষ উদ্যোগের নেপথ্যে বিএনপির একটি অংশের রাজনৈতিক কৌশল রয়েছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপি চাইছে আওয়ামী লীগের স্বচ্ছ ভাবমূর্তিসম্পন্ন নেতাদের নির্বাচনে আসার সুযোগ দিতে। এর ফলে দীর্ঘদিনের ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ দুটি উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে, যা কৌশলী দিক থেকে বিএনপির জন্য সহায়ক হবে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ নেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রবণতা দেখা গেলেও, কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে সেই ঐক্যে ফাটল ধরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে কোনো কোনো রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এটি আপাতদৃষ্টিতে বিএনপির কৌশল হলেও, ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগকে পুনরায় শক্তিশালী করার একটি সুযোগ হিসেবেও কাজ করতে পারে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন শেখ হাসিনা। এরপর নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছিল। এর প্রভাব পড়েছিল ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনেও, যেখানে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হয়েছিল। ওই নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। বর্তমানে শেখ হাসিনা দিল্লিতে অবস্থান করছেন এবং তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশি-বিদেশি মহলে নানামুখী জল্পনা চলছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের পঞ্চায়েত ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ক মন্ত্রী ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ঘোষণা অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ সব এলাকায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন একই সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করেছে। নির্বাচনের তারিখ যত ঘনিয়ে আসছে, আওয়ামী লীগ নেতাদের এই অংশগ্রহণের বিষয়টি বাংলাদেশের রাজনীতির সমীকরণকে ততটাই জটিল করে তুলছে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পর আওয়ামী লীগের কর্মীরা কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান এবং বিএনপির নির্বাচনী কৌশল শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।