১৫০ কণ্ঠে ‘বন্দেমাতরম্’! চুঁচুড়ায় ঐতিহাসিক সুরের মূর্ছনায় ফিরল বঙ্কিমচন্দ্রের স্মৃতি

ভারতের জাতীয় জীবনের অন্যতম আবেগ ‘বন্দেমাতরম্’। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী এই সৃষ্টির ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল ২৪ জুন চুঁচুড়া রবীন্দ্র ভবনে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকল শহরবাসী। চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগের উদ্যোগে এবং ‘ভারত মাতা সেবা সমিতি’-র পরিচালনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ১৫০ জন শিল্পীর কণ্ঠে একই সঙ্গে ধ্বনিত হলো দেশমাতৃকার বন্দনা। ভারতবর্ষের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১৫০ কণ্ঠে এমন সংহতির সুর বাজল বলে আয়োজকদের দাবি।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে ‘বন্দেমাতরম্’ গেয়ে দেশমাতৃকার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। সুরের মূর্ছনায় তখন যেন এক নতুন প্রাণশক্তি সঞ্চারিত হয়েছে রবীন্দ্র ভবনে। বিশেষ অতিথির আসন অলংকৃত করেন প্রখ্যাত সন্তুরবাদক পদ্মশ্রী তরুণ ভট্টাচার্য। এছাড়াও অনুষ্ঠানে ছিল দেশাত্মবোধক গান, নৃত্য, গীতি-আলেখ্য এবং ভায়োলিন বাদন, যা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।
এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে একটি স্মারক পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়। বঙ্কিম গবেষক বিজলি সরকার, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. অক্ষয় আঢ্য এবং অন্যান্যদের লেখায় সমৃদ্ধ এই পুস্তিকাটি এক অমূল্য দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উত্তরসূরী সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় (নৈহাটির বিধায়ক) ও কবি জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়।
বিধায়ক সুবীর নাগ স্মৃতিচারণ করে বলেন, “চুঁচুড়ার ইতিহাসের সঙ্গে বন্দেমাতরম্ অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। এই গৌরবের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ। এটি গত বছর ২০ ডিসেম্বর করার পরিকল্পনা থাকলেও তৎকালীন সরকারের বাধার কারণে তা সম্ভব হয়নি। আজ সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আমরা এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন করলাম।”
অনুষ্ঠানের আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘ঐকতান’। সঙ্গীত পরিচালক অশোক ভট্টাচার্যের পরিচালনায় এটি ছিল মাতৃবন্দনার সঙ্গে জাতীয় সংহতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন। তিনি বলেন, “সঙ্গীত কেবল বিনোদন নয়, এটি মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উন্নতির পাশাপাশি সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার শ্রেষ্ঠ মাধ্যম।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে বিধায়ক সুবীর নাগ চুঁচুড়ার সার্বিক উন্নয়নের ওপর জোর দেন। তিনি শহরের জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি, কোদালিয়া ও ব্যান্ডেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকাকে পৌরসভাভুক্ত করা এবং চুঁচুড়া শিশু বিজ্ঞান কেন্দ্রকে সংস্কার করে একটি আধুনিক আর্ট গ্যালারি তৈরির রূপরেখা তুলে ধরেন। ঐতিহাসিক চুঁচুড়া শহরের সৌন্দর্যায়ন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার লক্ষ্যেই তাঁর সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে তিনি জানান। এই অনুষ্ঠান কেবল একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়, বরং চুঁচুড়ার গৌরবময় অতীত এবং সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের এক সেতুবন্ধন হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে রইল।