হরমুজ প্রণালীতে মহাউদ্ধার অভিযান! আটকে থাকা ১১,০০০ নাবিককে ফেরাতে নামল ৬০০ জাহাজ

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এতদিন কার্যত মৃত্যুফাঁদ হয়ে থাকা হরমুজ প্রণালীতে এবার আশার আলো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির পর, এই অঞ্চলের সামুদ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে এক বিশাল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)। গত কয়েক সপ্তাহের অস্থিরতায় এখানে আটকে পড়া ১১,০০০-এরও বেশি নাবিককে নিরাপদে দেশে ফেরানোই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, এই উদ্ধারকার্যটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সামুদ্রিক অভিযান হতে চলেছে। এই মিশনে ৫০০ থেকে ৬০০টি বাণিজ্যিক জাহাজ অংশ নিচ্ছে। উল্লেখ্য, সংঘাতের আগে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে চলাচল করত, যা সাম্প্রতিক যুদ্ধের আবহে ২০ থেকে ৩০টিতে নেমে এসেছিল। আইএমও-র তত্ত্বাবধানে এবার জাহাজ চলাচল ফের স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

নিরাপদ চলাচলের জন্য আইএমও দুটি নতুন অস্থায়ী সমুদ্রপথ তৈরি করেছে। এর মধ্যে উত্তরের পথটি ইরানের উপকূল দিয়ে এবং দক্ষিণের পথটি ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জলসীমা দিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নাবিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সংস্থাটি কড়া নির্দেশ জারি করেছে। আইএমও জানিয়েছে, সমুদ্রের নিচে ল্যান্ডমাইন বা বিস্ফোরকের উপস্থিতি এখনো একটি বড় ঝুঁকি। তাই জাহাজের ক্যাপ্টেনদের কোনোপ্রকার তাড়াহুড়ো না করে কর্তৃপক্ষের নির্দেশের অপেক্ষায় থাকতে বলা হয়েছে। প্রতিটি জাহাজকে সুনির্দিষ্ট ‘ট্রানজিট গ্রুপ’-এ ভাগ করে দেওয়া হবে এবং যাত্রার জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করা হবে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে জাহাজ চলাচলের ওপর ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘ সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজগুলোতে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। আইএমও-র রিপোর্ট অনুযায়ী, এই হামলায় এ পর্যন্ত ১৪ জন নাবিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ক্রমাগত হামলা ও ল্যান্ডমাইনের আতঙ্কে সামুদ্রিক পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছিল বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর। তবে শান্তি চুক্তির পর এখন পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। এই উদ্ধার অভিযান কেবল নাবিকদের জীবনই বাঁচাবে না, বরং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট কমাতেও বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। এখন পুরো বিশ্বের নজর এই বিশাল উদ্ধারকার্যের সফল সমাপ্তির দিকে।