১৭ কোটির রাজকীয় বিয়ে, অথচ পরিণতি মৃত্যু! কেতনের মর্ডার মিস্ট্রি কি তবে সিনেমার চিত্রনাট্য?

পুণের বিখ্যাত ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল খুনের ঘটনায় দেশের আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। শুরুতে একে পথদুর্ঘটনা বলে মনে করা হলেও, তদন্তের মোড় ঘুরতেই সামনে এল এক ভয়াবহ সত্য। মাত্র ২০ বছর বয়সী মंगेতর সিয়া গোয়েল এবং তার প্রেমিক চেতন চৌধুরীর যৌথ পরিকল্পনায় খুন হয়েছেন ২৬ বছর বয়সী এই সফল তরুণ শিল্পপতি। এই খুনের নেপথ্যে উঠে এসেছে রোমহর্ষক ষড়যন্ত্রের গল্প, যা যেকোনো ক্রাইম থ্রিলারকেও হার মানাবে।
কেতন আগরওয়াল ছিলেন পুণের অন্যতম প্রভাবশালী রিয়েল এস্টেট সংস্থা “সक्সেস গ্রুপ”-এর ডিরেক্টর ও সিএমও। তাঁর পরিবার পুণের অন্যতম বিত্তশালী হিসেবে পরিচিত। কেতনের দাদা দেবীচাঁদ আগরওয়াল ২০০৮ সালে এই সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন, যা বর্তমানে রিয়েল এস্টেট ও হসপিটালিটি সেক্টরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। কেতন নিজে ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী; আমেরিকা থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করে পারিবারিক ব্যবসার হাল ধরেছিলেন তিনি। তাঁর পরিবার ও পেশাগত প্রতিপত্তি মিলিয়ে আগরওয়াল পরিবারের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা।
আগামী নভেম্বর মাসে সিয়া গোয়েলের সাথে কেতনের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। এই বিয়েকে স্মরণীয় করে রাখতে পরিবার কোনো ত্রুটি রাখেনি। উদয়পুরের একটি রাজকীয় প্রাসাদে বিয়ের আসর বসানোর জন্য বুকিং দেওয়া হয়েছিল ১৭ কোটি টাকায়। অতিথিদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য দুটি চার্টার্ড বিমানও ভাড়া করা হয়েছিল। প্রি-ওয়েডিং শুট থেকে শুরু করে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে খরচ করা হয়েছিল লক্ষ লক্ষ টাকা। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল, অথচ সেই আভিজাত্যের আড়ালেই লুকিয়ে ছিল এক সুগভীর মৃত্যুর ফাঁদ।
তদন্তকারী পুলিশ অফিসারদের মতে, সিয়া ও তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী কেতনকে পথের কাঁটা হিসেবে সরিয়ে দিতে এই ঘৃণ্য পরিকল্পনা করেছিল। কেতনের সাথে বাগদান হওয়া সত্ত্বেও সিয়া তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষার বশবর্তী হয়েই হয়তো এই পথে হেঁটেছেন। কেতনের মৃত্যুর পর যখন পুলিশের জালে এই খুনিরা ধরা পড়ে, তখন গোটা দেশ স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। একদিকে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ও রাজকীয় বিয়ের স্বপ্ন, অন্যদিকে প্রেমিকার বিশ্বাসঘাতকতায় অকালে ঝরে যাওয়া একটি প্রাণ—এই ঘটনা পুণের উচ্চবিত্ত মহলে এক গভীর আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে অভিযুক্তরা পুলিশি হেফাজতে রয়েছে এবং ঘটনাটির প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই খুনের নেপথ্যে আর কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি যুক্ত কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।