৪ কোটির সোনার উৎস কী? সব্যসাচী দত্তের ঘনিষ্ঠ টিনা সাহাকে টানা ৫ ঘণ্টা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ পুলিশের

তোলাবাজি মামলায় সব্যসাচী দত্তের জেল হেফাজতের নির্দেশের পরই নতুন মোড় নিল তদন্ত। বুধবারই ফের তাঁকে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আর এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, সব্যসাচী-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেত্রী টিনা সাহা ভৌমিককে তলব করল পুলিশ। উত্তর বিধাননগর থানায় দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা ধরে তাঁকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চালালেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
পেশায় প্রাথমিক শিক্ষিকা এবং জেলা পরিষদের সদস্যা টিনা সাহা ভৌমিকের বাপের বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ি থেকে প্রায় ৩ কেজি সোনার গয়না উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাজারমূল্য অনুযায়ী এই সোনার গয়নার দাম প্রায় ৪ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। পুলিশের দাবি, তোলাবাজির অভিযোগে ধৃত সব্যসাচীকে নিয়ে সোমবার রাতে যখন টিনার বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ, তখনই এই বিপুল পরিমাণ সোনার হদিশ পাওয়া যায়। আর এত পরিমাণ সোনা কীভাবে একজন প্রাথমিক শিক্ষিকার বাড়িতে এল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য।
তদন্তকারীদের একটি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, টিনা সাহাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় একাধিক জটিল প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল— এই বিশাল পরিমাণ সোনার গয়না কেনার টাকার উৎস কী? সব্যসাচী দত্তের সাথে তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক পরিচয় কত গভীর? বাজেয়াপ্ত করা সোনা কেনার ক্ষেত্রে সব্যসাচী দত্ত তাঁকে আর্থিকভাবে সাহায্য করেছিলেন কি না, এই বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এই সোনা কি সব্যসাচীর তোলাবাজির কালো টাকা দিয়ে কেনা, না কি এর পিছনে অন্য কোনো অর্থনৈতিক লেনদেন রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অব পুলিশের নেতৃত্বাধীন তদন্তকারী দল।
দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের পর যখন টিনা সাহা থানা থেকে বেরিয়ে আসেন, তখন তাঁকে ঘিরে সাংবাদিকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু সব প্রশ্নের উত্তরে তিনি মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন। তিনি শুধু সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানান, “আইনের উপর আমার পূর্ণ ভরসা আছে।” তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন বলে দাবি করলেও, উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ সোনা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।
নদীয়ার তেহট্টের জেলা পরিষদের সদস্যা টিনা সাহা ভৌমিকের রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে পরিচিতি ভালোই। এমন একজন জনপ্রতিনিধির ঘর থেকে এই পরিমাণ সোনা উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতেও শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সব্যসাচী দত্তের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠতার জেরেই কি পুলিশের নজরে পড়লেন এই নেত্রী? ঘটনার পরবর্তী সময়ে সব্যসাচী এবং টিনার সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে শহরজুড়ে চলছে জোর চর্চা। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আগামী দিনে তাঁকে আবারও তলব করা হতে পারে। তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।