সব্যসাচী দত্তের কণ্ঠস্বরই কাল! তোলাবাজি কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ, বিশাল পরীক্ষার মুখে প্রাক্তন বিধায়ক

সল্টলেক তথা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের পরিচিত মুখ প্রাক্তন বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত এখন আইন ও রাজনীতির জটিল গোলকধাঁধায় আটকা পড়েছেন। একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য এবং তোলাবাজির অভিযোগে ঘিরে থাকা সব্যসাচীর জন্য সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বিপদ বাড়ছে। পুলিশি হেফাজত থেকে জেল হেফাজত—সর্বত্রই যেন তাঁকে তাড়া করে ফিরছে একের পর এক আইনি বিপত্তি। এবার তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে নেওয়া হবে তাঁর ‘ভয়েস স্যাম্পল’ বা কণ্ঠস্বরের নমুনা।
তোলাবাজির অভিযোগ ও আইনি জট:
সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, তিনি অভিযোগকারীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেছিলেন। প্রাথমিক অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার পর, পরবর্তীতে আরও ১ কোটি টাকা চেয়ে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। এই হুমকি বা ‘থ্রেট কল’-এর অভিযোগের ভিত্তিতেই সব্যসাচীর বিরুদ্ধে তদন্তের জাল বিস্তার করেছে পুলিশ। বুধবার সব্যসাচী দত্ত এবং তাঁর সহযোগীর জামিনের আবেদন বারাসত এডিজে তৃতীয় আদালতে খারিজ হয়ে যায়। অতিরিক্ত ডিস্ট্রিক্ট জজ (তৃতীয়) স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, সব্যসাচীকে আগামী ১৪ দিন জেল হেফাজতেই থাকতে হবে।
কেন ভয়েস স্যাম্পল জরুরি?
এই মামলার স্পেশাল পিপি বিভাস চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তদন্তের খাতিরে সব্যসাচী দত্ত, তাঁর সহযোগী এবং অভিযোগকারীর কণ্ঠস্বরের নমুনা নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী, তাঁকে ফোনে হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং সেই কথোপকথনের কল রেকর্ডিং ইতিমধ্যেই তদন্তকারীদের হাতে পৌঁছেছে। পুলিশ মূলত সেই কল রেকর্ডের সঙ্গে অভিযুক্তের কণ্ঠস্বরের মিল খুঁজে পেতেই এই ‘ভয়েস টেস্ট’-এর পথে হাঁটছে। আদালত এই আবেদনের মঞ্জুরি দেওয়ার পর, আগামীকাল বৃহস্পতিবারই ওই তিনজনের নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
ইলেকট্রনিক এভিডেন্সের গুরুত্ব:
তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, এই মামলায় সাধারণ সাক্ষ্যপ্রমাণের চেয়ে ইলেকট্রনিক এভিডেন্স বা ডিজিটাল তথ্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। স্পেশাল পিপি বিভাস চট্টোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, সব্যসাচীর সহযোগী অভিযোগকারীর কাছ থেকে ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা গুনছেন—এমন স্পষ্ট ‘ভিডিও এভিডেন্স’ বা ভিডিও প্রমাণ পুলিশের হাতে রয়েছে। এই ডিজিটাল প্রমাণই তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ সব্যসাচী দত্তকে পুনরায় জেল হেফাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ভয়েস স্যাম্পল সংগ্রহের জন্য তাঁকে ফের বারাসত আদালতে হাজির করানো হবে। সব্যসাচী দত্ত বারংবার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করলেও, তদন্তকারী সংস্থার হাতে থাকা অকাট্য ডিজিটাল প্রমাণগুলো তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, কন্ঠস্বরের এই নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট কি তবে সব্যসাচীর জন্য নতুন কোনো বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে? আপাতত সেই উত্তরের অপেক্ষায় রাজ্যের নজর এখন বারাসত আদালতের দিকে।