ফের পাকিস্তানের স্কুলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ! টার্গেট এবার কন্যাসন্তানদের শিক্ষা?

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের লোয়ার সাউথ ওয়াজিরিস্তান জেলায় একটি সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয় বোমা বিস্ফোরণে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে বিরমল তহসিলের সারা ঘোয়ারা এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা বিস্ফোরক ব্যবহার করে এই নারকীয় কাণ্ড ঘটায়। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে, তবে এখনও কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী এর দায় স্বীকার করেনি।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই অঞ্চলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালে খাইবার পাখতুনখোয়াতেই ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো পরিকল্পিতভাবে মেয়েদের শিক্ষাকে লক্ষ্যবস্তু করছে। ২০০৬ সাল থেকে পাকিস্তানে বিদ্যালয়গুলোতে ৫৫০টিরও বেশি হামলায় ৩২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ২০১৪ সালের পেশোয়ারের আর্মি পাবলিক স্কুলের সেই ভয়াবহ স্মৃতি আজও দেশবাসীকে তাড়িয়ে বেড়ায়।

পাকিস্তানে মেয়েদের শিক্ষার পরিস্থিতি চরম প্রতিকূল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পুরুষদের তুলনায় নারীদের সাক্ষরতার হার অনেক কম (মাত্র ৫২-৫৪%)। বর্তমানে দেশের প্রায় ২.৫১ কোটি শিশু স্কুলের বাইরে রয়েছে, যার অর্ধেকের বেশি কন্যাসন্তান। সাংস্কৃতিক পশ্চাৎপদতা, দারিদ্র্য এবং চরমপন্থী হামলার ভয়ে গ্রামীণ এলাকায় মেয়েদের স্কুল শিক্ষার ভবিষ্যৎ ঘোর অন্ধকার। এই সাম্প্রতিক বিস্ফোরণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে ফের জাতীয় স্তরে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।