মৃত্যুপুরী তারাতলা! হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল বিশাল কংক্রিটের ছাদ, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে কত জন!

বুধবার দুপুরে এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের সাক্ষী রইল কলকাতার তারাতলা। বেসব্রিজের কাছে পরিবহণ দফতরের একটি নির্মীয়মাণ গোডাউনের বিশাল কংক্রিটের ছাদ আচমকাই ভেঙে পড়ায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুপুরের ভরদুপুরে কাজ চলাকালীন এই দুর্ঘটনায় চাপা পড়েন সেখানে কর্মরত বহু শ্রমিক। ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ভেসে আসা আর্তনাদ মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতিকে আরও মর্মান্তিক করে তোলে।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার বেলা একটা নাগাদ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গোডাউনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলাকালীন হঠাৎ করেই বিকট শব্দে আস্ত ছাদটি হুড়মুড়িয়ে নিচে ভেঙে পড়ে। কংক্রিটের বিশাল স্ল্যাবের পাশাপাশি ভারী লোহার বিমগুলোও নিচে পড়ে যায়, যার ফলে শ্রমিকরা পালানোর কোনো পথ পাননি। ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে কলকাতা পুলিশের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
উদ্ধারকার্যের গতি বাড়াতে পরবর্তীতে রাজ্য সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (NDRF) জওয়ানরা উদ্ধারকাজে যোগ দেন। কলকাতা বন্দরের উদ্ধারকারী দলও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের শনাক্ত করতে প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করা হচ্ছে। হাইড্রলিক ক্রেন ও গ্যাস কাটারের সাহায্যে কংক্রিটের ভারী স্ল্যাব ও লোহার বিম সরিয়ে ভেতরে প্রবেশের পথ তৈরির চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন আহত শ্রমিককে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের গভীরে এখনও বহু মানুষ আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের ফলেই এই ভয়াবহ ধস নেমেছে। তাঁদের মতে, ছাদ ঢালাইয়ের সময় কাঠামোগত দুর্বলতা ছিল স্পষ্ট। এই ঘটনার তদন্তের দাবি তুলেছেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও ঘটনাস্থলে আসতে পারেন।
এদিকে, উদ্ধারকাজকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আটকে থাকা শ্রমিকদের প্রিয়জনরা ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী সুড়ঙ্গ তৈরি করে ভেতরে পৌঁছানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, নিখোঁজ শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের জন্য সব ধরণের প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলা হয়েছে, যাতে উদ্ধারকাজে কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও আধিকারিকদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী। এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে উদ্ধারকাজ, যেখানে প্রতিটা মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান।