বিধানসভায় বাম-তৃণমূল দ্বৈরথ! ঋতব্রতর পাল্টা শুভেন্দুর ঐতিহাসিক কটাক্ষে সরগরম কক্ষ

বিধানসভার অধিবেশন কক্ষে এদিন যেন ছিল কথার লড়াইয়ের মাঠ। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের কড়া জবাব দিতে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যেমন একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন, তেমনই ঋতব্রতকেও বিঁধেছেন কার্ল মার্ক্স ও লেনিনের প্রসঙ্গ টেনে।
‘আসল ছিল যুবরাজ’ এদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী পুরনো দলত্যাগের স্মৃতি মনে করিয়ে দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “১৩ জনের সই আছে যারা রেজোলিউশনে সই করেনি। আমার অনেক অভিযোগ ছিল, তাই সিআইডিকে দিয়েছি। সিআইডি হাতের লেখা পরীক্ষা করে দেখেছে, তিনজন স্বীকার করেছে যে সই তাদের নয়।” এরপরেই বিস্ফোরক মন্তব্যে তিনি বলেন, “আপনারা সবাই ল্যাম্পপোস্ট ছিলেন, আসল ছিল যুবরাজ। কারো প্রতিবাদ করার বুকের পাটা ছিল না, আমি প্রতিবাদ করেছি।” নাম না নিলেও শুভেন্দুর এই তোপ যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই ছিল, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কোনো সংশয় নেই।
ঋতব্রতকে কটাক্ষ অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিজের প্রথম বক্তৃতায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বামপন্থা ও ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ টেনে জ্যোতি বসুর বিভিন্ন উক্তি উল্লেখ করেন। তার পাল্টা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কার্ল মার্ক্স এবং লেনিনের নাম নিয়ে ঋতব্রতকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। বিধানসভার ফ্লোরে দুই নেতার এই বাদানুবাদ অধিবেশনের উত্তাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
হকার উচ্ছেদ নিয়ে উত্তাপ এদিনের অধিবেশনে হকার উচ্ছেদ প্রসঙ্গও উঠে আসে। নিউ মার্কেট থেকে শুরু করে যাদবপুর ও দমদম স্টেশনে বেআইনি হকার উচ্ছেদ নিয়ে রাজ্য জুড়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে বিরোধী শিবিরের সমালোচনা করেন ঋতব্রত। এই ইস্যুতে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় বা সৃজন ভট্টাচার্যের মতো বাম নেতাদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে শাসকদলের বিরুদ্ধে সুর চড়ান তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভার ভেতরে আদি তৃণমূল, নব্য তৃণমূল এবং বিরোধী শিবিরের এই ত্রিমুখী লড়াই রাজ্যের আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে। একদিকে শুভেন্দুর ‘বুকের পাটা’র দাবি, অন্যদিকে ঋতব্রতর বামপন্থী তাত্ত্বিক আক্রমণ—সব মিলিয়ে আগামী দিনে বিধানসভার অধিবেশন যে আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।