বিপত্তিতেও অটুট ভারত! ওমান-আমেরিকা থেকে তেল আমদানিতেই সংকটমুক্ত জ্বালানি বাজার

পশ্চিম এশিয়ার চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং তার ফলে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় যে বড় ধাক্কা এসেছিল, তাতেও ভারত তার অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। এস অ্যান্ড পি গ্লোবাল এনার্জির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কীভাবে সুদূরপ্রসারী কূটনৈতিক ও ব্যবসায়িক কৌশলে ভারত এই সংকট থেকে বেরিয়ে এসেছে।

সংকট মোকাবিলায় ভারতের কৌশল এস অ্যান্ড পি গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, হোরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের ওপর বিধিনিষেধের ফলে বিশ্বের মোট এলএনজি (LNG) সরবরাহের প্রায় ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কিন্তু বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম এলএনজি আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারত ওমান, আমেরিকা, নাইজেরিয়া এবং অ্যাঙ্গোলার মতো নতুন নতুন দেশ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের পথ প্রশস্ত করে। এর ফলে এপ্রিল ও মে মাসে ভারতের এলএনজি আমদানিতে হ্রাস পেয়েছে নগণ্য—মাত্র ২ থেকে ৫ শতাংশ।

কঠিন সময়েও তেলের জোগান শুধু এলএনজি নয়, অশোধিত তেলের ক্ষেত্রেও ভারত রাশিয়া ছাড়াও আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার মতো উৎস থেকে তেল আমদানি বাড়িয়ে ভারসাম্য বজায় রেখেছে। এস অ্যান্ড পি গ্লোবাল এনার্জির মতে, এই সংকটকালে চীন ও জাপান তাদের আমদানি কমিয়ে দেওয়ায় ভারতের কাছে বিকল্প বাজার খোঁজার সুযোগ তৈরি হয়েছিল, যা ভারত অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজে লাগিয়েছে।

ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ ও ভারতের প্রস্তুতি বিশেষজ্ঞদের মতে, সংকট পুরোপুরি কাটেনি। জুন ও জুলাই মাস পর্যন্ত বিশ্ববাজারে তেল মজুত কমে যাওয়ার একটা ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে তেলের দাম বৃদ্ধির চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে ভারতের জ্বালানি নীতিতে এখন দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

এস অ্যান্ড পি গ্লোবাল এনার্জির গবেষক নিক শর্মা জানান, ভবিষ্যতে বড় আকারের প্রকল্পের চেয়েও এখন স্থিতিশীল সম্পদের ওপর জোর দিচ্ছে ভারত। অর্থাৎ, কম খরচে বা শুধু বড় স্কেলে কাজ না করে, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করা এবং পোর্টফোলিও বৈচিত্র্য আনাই এখন ভারতের মূল এজেন্ডা।

সংক্ষেপে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও ভারত যে দ্রুততার সাথে তার সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করতে পেরেছে, তা বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারী ও বাজার বিশ্লেষকদের কাছে এক ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে উঠেছে।