তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের মাঝেই আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ! সন্দীপনকে নিশানা কুনালের

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের আঁচ ক্রমশ বাড়ছে। এবার দলের বিদ্রোহী বিধায়ক সন্দীপন সাহার বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুললেন দলের মুখপাত্র ও বিধায়ক কুনাল ঘোষ। তাঁর দাবি, সন্দীপন সাহা তাঁর নির্বাচনে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করেছেন, তার সিংহভাগই এসেছে তৃণমূলের সেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে, যেটি বর্তমানে ফ্রিজ করা হয়েছে।
কী অভিযোগ কুনাল ঘোষের? কুনাল ঘোষের দাবি অনুযায়ী, সন্দীপন সাহা তাঁর নির্বাচনে মোট ২৭ লক্ষ টাকার বেশি খরচ করেছিলেন। যার মধ্যে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকাই তোলা হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের নির্দিষ্ট সেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে, যা নিয়ে বর্তমানে দলের অন্দরে বিস্তর বিতর্ক চলছে। কুনাল ঘোষের ভাষায়, “সন্দীপন সাহারা প্রথমবার দলের প্রতীক ও ফান্ড ব্যবহার করেই বিধায়ক হয়েছেন। এখন সেই অ্যাকাউন্টেরই তদন্ত চাইছেন তাঁরা! এটা নৈতিকভাবে ঠিক নয়।”
আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি: কুনাল ঘোষ আরও বলেন, “আইন অনুযায়ী, কোনো নির্বাচনে যদি অবৈধ অর্থ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সেই নির্বাচন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই এই টাকা অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনে ফেরত দেওয়া উচিত।” তাঁর অভিযোগ, এই বিধায়করা বিরোধীদের সঙ্গে গোপন আঁতাত করে দলের সম্মানহানির চেষ্টা করছেন এবং এই কর্মকাণ্ড একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।
বিদ্রোহী শিবিরের প্রতিক্রিয়া: দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলাই কি কাল হয়েছে? সন্দীপন সাহার ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, দলের ফান্ডের হিসেব চাওয়া বা স্বচ্ছতা দাবি করা কোনো অপরাধ নয়। উল্টে দলের একাংশ এই স্বচ্ছতার দাবিকে ধামাচাপা দিতেই তাঁদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ আনছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: সন্দীপন সাহা সহ বেশ কয়েকজন তৃণমূল বিধায়ক সাম্প্রতিককালে দলের কার্যপদ্ধতি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংকিং লেনদেনের তদন্ত দাবি করেছিলেন। এরপরই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব সেই অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ করার পদক্ষেপ নেয়। এখন সেই অ্যাকাউন্ট থেকেই নির্বাচনী খরচ হওয়ার তথ্য সামনে আসায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
তৃণমূলের সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে বিরোধী শিবির—প্রত্যেকেই এখন এই আর্থিক বিতর্কের জল কতদূর গড়ায়, সেদিকে নজর রেখেছেন।