ইতিহাস মুছে ফেলার অভিযোগ! তারকেশ্বরের মঞ্চ থেকে কংগ্রেস-বাম-তৃণমূলকে তুলোধোনা প্রধানমন্ত্রীর

পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মঞ্চ থেকে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার তারকেশ্বরে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর নিশানায় ছিল কংগ্রেসের অতীত ইতিহাস থেকে শুরু করে রাজ্যের বর্তমান ও প্রাক্তন সরকারের কর্মপদ্ধতি।
কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মোদির বিস্ফোরক অভিযোগ: তারকেশ্বরের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, দেশভাগের সময় বাংলাকে পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত করার এক গভীর ষড়যন্ত্র হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, সেই সময় কংগ্রেস নেতৃত্ব ষড়যন্ত্রকারীদের সামনে নতি স্বীকার করেছিল। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে মোদি বলেন, “শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বাঙালি হিন্দু হোমল্যান্ড মুভমেন্ট না হলে পুরো বাংলাই হাতছাড়া হয়ে যেত। মেঘনাদ সাহা, যদুনাথ সরকারের মতো ব্যক্তিত্বরা সেই আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন।”
ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ: স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে ইতিহাসকে ‘হোয়াইট ওয়াশ’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, কংগ্রেসের দেখানো পথেই পরবর্তীতে বাম ও তৃণমূল সরকার চলেছে। মোদির দাবি, তোষণের রাজনীতি এবং বিদেশি আদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার কারণে বাংলা আজ পিছিয়ে পড়েছে। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, প্রথমে কংগ্রেস এবং পরবর্তীতে বাম ও তৃণমূল সরকার বাংলাকে অনুপ্রবেশকারীদের ‘আঁতুরঘর’ বানিয়ে ফেলেছিল।
রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরব মোদি: তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দশকের পর দশক ধরে বাম ও তৃণমূল যে ‘কুশাসনের গর্ত’ তৈরি করেছিল, বর্তমানে ডবল ইঞ্জিন সরকার তা ভরাট করে উন্নয়নের গতি বাড়াচ্ছে। শিল্পায়ন ও বেকারত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মোদি বলেন, “বাম ও তৃণমূলের আমলে বড় শিল্পের পাশাপাশি ছোট শিল্পও বন্ধ হয়ে গেছে। যুবকরা বাধ্য হয়ে অন্য রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে।” তবে রাজ্যবাসী তৃণমূল সরকারকে বদলে বিজেপির ওপর যে আস্থা রেখেছেন, তার সুফল বাংলা পেতে শুরু করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি: এদিনের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যরা। ২০ জুন কেন পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করা হচ্ছে, তার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও এদিনের মঞ্চ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন প্রধানমন্ত্রী।