মেসিকাণ্ডে নয়া মোড়! বিধাননগর থানায় হাজিরা প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের, কী জানা গেল?

মেসিকাণ্ডের তদন্তে এল এক চাঞ্চল্যকর মোড়। দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অরূপ বিশ্বাস। তদন্তকারী আধিকারিকদের পাঠানো একের পর এক নোটিসের প্রেক্ষিতে এদিন তাঁর এই হাজিরা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। পুলিশ সূত্রে খবর, এদিন প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা।

দীর্ঘদিন ধরে চলা মেসিকাণ্ড নিয়ে পুলিশি তদন্তের জালে একাধিক প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বিষয় উঠে আসছিল। এই রহস্যের কিনারা করতে তদন্তকারীরা অরূপ বিশ্বাসের বক্তব্য রেকর্ড করতে চাইছিলেন। সেই কারণেই তাঁকে পরপর তিনটি নোটিস পাঠানো হয়। প্রথম ও দ্বিতীয়বার ব্যক্তিগত কারণবশত তিনি হাজিরা দিতে না পারলেও, তৃতীয় নোটিস পাওয়ার পরই এদিন সকালে নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি বিধাননগর দক্ষিণ থানায় পৌঁছন।

সূত্রের খবর, জেরার সময় তদন্তকারীরা মূলত মেসিকাণ্ডের সময়কার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, সংশ্লিষ্ট ফাইল এবং সাংগঠনিক দায়বদ্ধতা নিয়ে তাঁকে একাধিক প্রশ্ন করেছেন। তদন্তকারী অফিসাররা জানতে চেয়েছেন যে, সেই সময়ে কোনো নির্দেশ বা সিদ্ধান্ত অরূপ বিশ্বাসের অগোচরে নেওয়া হয়েছিল কি না। পাশাপাশি, ইতিমধ্যেই সংগৃহীত তথ্যের সঙ্গে তাঁর বয়ানের কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তাও ক্রস-ভেরিফাই করছেন তদন্তকারীরা। তবে এই জিজ্ঞাসাবাদ পর্বের বিষয়বস্তু নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

থানা থেকে বেরিয়ে আসার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও অরূপ বিশ্বাস অত্যন্ত সংযত ছিলেন। তদন্তের বিষয়বস্তু নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আমি একজন আইন মান্যকারী নাগরিক। আইন অনুযায়ী যা যা করণীয়, আমি তার সবটাই করেছি এবং তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছি।” জিজ্ঞাসাবাদের ধরণ বা প্রশ্নের বিষয়ে তিনি কোনো ইঙ্গিত না দিয়ে দ্রুত সেখান থেকে প্রস্থান করেন।

অরূপ বিশ্বাসের থানায় হাজিরাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বিধাননগর দক্ষিণ থানা চত্বরে ছিল কড়া পুলিশি নিরাপত্তা। থানার বাইরে মোতায়েন করা হয়েছিল অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। প্রাক্তন মন্ত্রীর আগমন ও প্রস্থানের মুহূর্তটিকে ক্যামেরাবন্দি করতে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা সকাল থেকেই ভিড় জমিয়েছিলেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই তদন্তের পরবর্তী ধাপগুলি তৃণমূলের সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক মহলে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। পুরো বিষয়টি এখন প্রশাসনের নজরে রয়েছে এবং তদন্তকারী আধিকারিকরা এখন তাঁর বয়ান খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন বলে জানা গেছে।