হুগলির বুকে জোড়া টর্নেডো! চোখের সামনেই আকাশ চিরে উঠে এল বিশালাকার জলস্তম্ভ, দেখুন দৃশ্য

বুধবার বিকেলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর ব্লকের মহিষামারি এলাকায় এক বিরল ও রোমহর্ষক প্রাকৃতিক দৃশ্যের সাক্ষী থাকলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দিনের উজ্জ্বল আলো নিমেষের মধ্যে ঢাকা পড়ল কালো মেঘের চাদরে। আর সেই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই হুগলি নদীর বুক ফুঁড়ে উঠে আসতে দেখা গেল দুটি বিশালাকার ঘূর্ণায়মান জলস্তম্ভ। দূর থেকে যা অবিকল জোড়া টর্নেডোর মতো মনে হচ্ছিল। নদীর জলরাশি থেকে সরাসরি আকাশের মেঘ পর্যন্ত ফানেল আকৃতিতে বিস্তৃত এই দৃশ্যটি যেমন ছিল বিস্ময়কর, তেমনই ছিল আতঙ্কজাগানিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিকেলের দিকে আচমকাই সাগর ব্লকের মহিষামারি এলাকায় আবহাওয়ার ভোলবদল ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢেকে যায়, শুরু হয় ঝোড়ো হাওয়া ও প্রবল বৃষ্টিপাত। এই ঝড়ের দাপটেই নদী বক্ষে তৈরি হয় দুটি দৈত্যাকার জলস্তম্ভ। স্থানীয়রা জানান, নদীর ওপর বিশাল ওই ঘূর্ণিগুলো সাপের মতো পেঁচিয়ে ওপরের দিকে উঠতে থাকে এবং দীর্ঘক্ষণ দাপিয়ে বেড়ায়। এই অকল্পনীয় দৃশ্য দেখে এলাকার বাসিন্দারা দিশেহারা হয়ে পড়েন, অনেকের মনেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, জলভাগের ওপর তৈরি হওয়া এই বিশেষ ধরনের ঘূর্ণি বা টর্নেডোকে বলা হয় ‘জলস্তম্ভ’ বা ‘ওয়াটার স্পাউট’ (Waterspout)। সাধারণত কিউমুলোনিম্বাস (Cumulonimbus) নামক বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে এই ধরনের জলস্তম্ভের সৃষ্টি হয়। বাংলায় সচরাচর এই ধরনের প্রাকৃতিক ঘটনার দেখা খুব একটা মেলে না। তাই এমন বিরল এবং ‘ভয়ংকর সুন্দর’ ঘটনার সাক্ষী থাকতে পেরে যেমন বিস্মিত হয়েছেন সাধারণ মানুষ, তেমনই নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে চরম আতঙ্ক।
স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের মোবাইল ফোনে এই বিরল মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও বন্দি করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই দৃশ্য ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওগুলোতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, কীভাবে নদীর জল ঘূর্ণির আকারে আকাশের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে। দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে অনেকেই নিজেদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে গেছেন। উপকূলবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে এই বিরল ঘটনা নিয়ে এখনো নানা জল্পনা ও চর্চা চলছে। যদিও এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে, তবুও এই জলস্তম্ভের স্মৃতি স্থানীয়দের মনে ভয়ের রেশ রেখে গেছে।