মেসির অনুষ্ঠানে ‘অতিসক্রিয়তা’ ও দুর্নীতির অভিযোগ, অবশেষে বিধাননগর থানায় হাজিরা অরূপ বিশ্বাসের

গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বিশ্বজয়ী ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে যে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল, তা নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তদন্তকারী আধিকারিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই বিতর্কিত মামলার সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
উল্লেখ্য, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্ত প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতারণা, ভয় দেখানো, তোলাবাজি এবং টিকিট ও পাসের কালোবাজারির গুরুতর অভিযোগ তুলে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় এফআইআর দায়ের করেছিলেন। অভিযোগকারীর দাবি, অরূপ বিশ্বাস তাঁর রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোরপূর্বক ২২ হাজার টিকিট ও পাস হস্তগত করেছিলেন, যার ফলে প্রকৃত ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
শুধু টিকিট কেলেঙ্কারিই নয়, অনুষ্ঠানের দিন প্রোটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগও অত্যন্ত জোরালো। অভিযোগ রয়েছে, কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই প্রাক্তন মন্ত্রী তাঁর প্রায় ৪০ জন ঘনিষ্ঠ ফোটোগ্রাফারকে নিয়ে সরাসরি মাঠের ভেতরে ঢুকে পড়েন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের অভিযোগ, এর ফলে মাঠের শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয় এবং মেসিকেও বারবার স্পর্শ করে অহেতুক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়। এমনকি মেসির নিজস্ব টিমও পরবর্তী সময়ে বিধাননগর পুলিশকে ইমেল পাঠিয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, প্রাক্তন মন্ত্রীর এই অতিসক্রিয়তা এবং প্রোটোকল ভাঙার কারণেই মেসি নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন।
এর আগে বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতা ও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পর পর তিনবার পুলিশের সমন এড়িয়ে গিয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস। তবে আইনের হাত থেকে বাঁচতে কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করলে আদালত তাঁকে আগামী ১৭ অগস্ট পর্যন্ত কোনো কঠোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ প্রদান করে। একইসঙ্গে আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দেয় যে, তাঁকে তদন্তের স্বার্থে পুলিশের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। উচ্চ আদালতের সেই নির্দেশ এবং পুলিশের কড়া মনোভাবের চাপে পড়েই শেষ পর্যন্ত থানায় হাজিরা দিতে বাধ্য হলেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং অরূপ বিশ্বাসের এই হাজিরা পরবর্তী তদন্তে কোন মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।