প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনের অদূরেই তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের ওপর ডিম হামলার ঘটনায় শোরগোল পড়ে গেছে রাজ্য রাজনীতিতে। এই ঘটনার পর থেকেই কুণাল ঘোষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন।
কী ঘটেছিল সোমবার সন্ধ্যায়? সোমবার বিকেলে তৃণমূল সুপ্রিমোর সঙ্গে বৈঠক সেরে বেরিয়ে আসার সময় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন কুণাল ঘোষ। ঠিক সেই সময়েই পেছন থেকে এক যুবক তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে মারে। বিধায়কের মাথায় ডিম লাগলে পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাটিকে তিনি ‘পরিকল্পিত ও সুসংগঠিত অসভ্যতা’ বলে অভিহিত করেছেন।
কুণালের বিস্ফোরক অভিযোগ হামলার পরপরই কুণাল ঘোষ কালীঘাট থানায় এফআইআর দায়ের করেন। তবে তাঁর মূল উদ্বেগের জায়গাটি অন্যখানে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের পোস্টে কুণাল দাবি করেছেন, যে ব্যক্তি তাঁর ওপর ডিম ছুড়েছে, সে কিছুদিন আগে মমতার বাড়িতে সিআইডি (CID) অভিযানের সময় আনা নিরপেক্ষ সাক্ষীদের অন্যতম ছিল। তাঁর কথায়, ‘‘সিজার লিস্টে যার সই রয়েছে, সে কীভাবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে হামলা চালায়? এটা কি তবে পরিকল্পিত রেইকি (Reconnaissance) ছিল?’’
নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন জেড-ক্যাটাগরি নিরাপত্তা বলয় থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই ধরনের ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করেছেন কুণাল। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, হামলা চলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।
গ্রেফতারি ও বর্তমান পরিস্থিতি অভিযোগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কালীঘাট থানার পুলিশ চন্দন সিং এবং রবি কয়াল নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে। অভিযুক্ত চন্দন অবশ্য দাবি করেছে, কুণাল ঘোষের বিভিন্ন আচরণের বিরুদ্ধেই এই ‘জনরোষ’। তবে এই ঘটনাকে নিছক ডিম নিক্ষেপ বলে মানতে নারাজ তৃণমূল বিধায়ক। তিনি এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন এবং দাবি করেছেন যে, পুলিশ যেন কোনোভাবেই অভিযুক্তদের লঘু ধারায় জামিন না দেয়।
তৃণমূলের অন্দরের কোন্দল এবং রাজ্যের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কুণাল ঘোষের ওপর এই হামলাকে অনেকেই ‘মনস্তাত্ত্বিক আক্রমণ’ হিসেবে দেখছেন। বিষয়টি নিয়ে এখন প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।





