একদিকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জেরার চাপ, অন্যদিকে দলের অভ্যন্তরীণ ভাঙন—সব মিলিয়ে চরম রাজনৈতিক ও আইনি সংকটের মুখে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই জটিল পরিস্থিতির মধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ করার পরিকল্পনা ভেস্তে গেল।
নির্ধারিত বৈঠক কেন হলো না? দলের ভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে সাক্ষাতের আবেদন জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার স্পিকার অভিষেককে দেখা করার সময়ও দেন। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একই সময়ে ইডি (ED) ও সিআইডি (CID)-র ম্যারাথন জেরার চাপ এতই প্রবল ছিল যে, স্পিকারের সেই ইমেলটি দেখার মতো সময় বা সুযোগই পাননি তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা। ফলে সব প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও স্পিকারের সঙ্গে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি আর হয়ে ওঠেনি।
অভিষেকের বর্তমান সংকট অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে এখন একাধিক চ্যালেঞ্জ:
তদন্তের চাপ: কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি ও সিআইডির লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদে জর্জরিত তিনি।
দলের অন্দরে ফাটল: একদিকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মতো নেতাদের দ্বন্দ্ব, অন্যদিকে দলের একাংশের বিদ্রোহ—তৃণমূলের অন্দরের এই ভাঙন সামলানোই এখন বড় পরীক্ষা।
রাজনৈতিক অস্থিরতা: দুই ফ্রন্ট থেকে আসা চাপের ফলে তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সংগঠনের কাজে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ব্যস্ততা ও কেন্দ্রীয় সংস্থার জেরার ঘনঘটা তৃণমূলের অন্দরের অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। স্পিকারের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ ভেস্তে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে চলছে তুমুল জল্পনা। এখন দেখার বিষয়, আইনি এই চাপ কাটিয়ে দলগত সংকটে অভিষেক কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেন।





