‘ভগবান অহংকার সহ্য করেন না’! মমতাকে বেনজির আক্রমণ কার্তিক মহারাজের, নিজেকে বললেন ‘কিং মেকার’

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে ভারত সেবাশ্রমের কার্তিক মহারাজ। জলপাইগুড়ির মালবাজারে এক হিন্দু সাংস্কৃতিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন এই পদ্মশ্রী প্রাপ্ত সন্ন্যাসী। মমতার নাম না করেই তাঁর নিশানায় উঠে এল রাজনীতির ‘অহংকার’ ও ‘পতনের’ প্রসঙ্গ।

অহংকার নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি মঙ্গলবার মালবাজারের হিন্দু মিলন মন্দিরে আয়োজিত সভায় ৪ মে পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বলতে গিয়ে কার্তিক মহারাজ বলেন, “এত অহংকার! ভগবান সব সহ্য করতে পারেন, কিন্তু কোনো মানুষের অহংকার সহ্য করেন না।” তাঁর মতে, বিজেপি এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা না নিলে বাংলার অবস্থা অত্যন্ত দুর্বিষহ হতো।

আমি ‘কিং মেকার’: কার্তিক মহারাজ একসময় তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করার জল্পনা ছড়িয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। সেই প্রসঙ্গ উঠতেই কার্তিক মহারাজ সাফ জানিয়ে দেন, “এটা সত্য ঘটনা যে, পশ্চিমবঙ্গে সার্ভে রিপোর্টে আমার নামই প্রথম উঠে এসেছিল।” তবে সন্ন্যাসী হিসেবে তিনি সিংহাসনের লোভ করেন না বলেই দাবি তাঁর। তিনি বলেন, “সন্ন্যাসী কিং (রাজা) হয় না, কিং মেকার হয়। ভগবান রামচন্দ্রের পিছনে ছিলেন ঋষি বশিষ্ট, শ্রীকৃষ্ণের ছিলেন সন্দীপন মুনি, আর শিবাজীর পিছনে ছিলেন রামদেব স্বামী।”

তাঁর দাবি, বর্তমানে সমগ্র সাধু সমাজ সরকারের পাশে রয়েছে, কারণ এই লড়াইটা আসলে ‘ধর্ম বনাম অধর্মের’।

মালবাজারে রাজকীয় অভ্যর্থনা এদিন মালবাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে হুডখোলা জিপে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে তাঁকে নিয়ে আসা হয় হিন্দু মিলন মন্দিরে। এই আয়োজনে জেলা বিজেপি নেতৃত্বের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। অনুষ্ঠানে বহু ভক্তকে দীক্ষা দেন মহারাজ।

দিনভর মালবাজারের বিভিন্ন কর্মসূচি সেরে কার্তিক মহারাজ ওদলাবাড়িতে ভারত সেবাশ্রমের নতুন আশ্রমের কাজ পরিদর্শন করেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, সন্ধ্যায় তাঁর কালিয়াগঞ্জ যাওয়ার কথা রয়েছে। মালবাজার ভারত সেবাশ্রমের সম্পাদক দীপক দে জানান, মহারাজের উপস্থিতিতে আশ্রমবাসী আপ্লুত ও ধন্য।

রাজনৈতিক মহলের মতে, কার্তিক মহারাজের এই মন্তব্য আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy