বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নিয়োগ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে তীব্র অস্বস্তিতে বিধানসভার স্পিকার। তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিয়োগের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলায়, মঙ্গলবার স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে একের পর এক কড়া প্রশ্ন তুললেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।
আদালতে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ: শুনানি চলাকালীন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও সরাসরি জানতে চান, “একই দলের তরফে যখন দুটি ভিন্ন প্রস্তাব স্পিকারের কাছে এল, তখন তিনি কোন যুক্তিতে প্রথম প্রস্তাবটি উপেক্ষা করে দ্বিতীয়টি গ্রহণ করলেন?” আদালতের প্রশ্ন, স্পিকারের চেম্বারে বসে কীভাবে তিনি নিশ্চিত হলেন যে একটি প্রস্তাব ভুল আর অন্যটি সঠিক? বিচারপতি আরও বলেন, “স্পিকার কি নিজের ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন? সব ঠিক থাকলেও, স্পিকার ঠিক কোন ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিলেন, তা আমাকে স্পষ্ট জানাতে হবে।”
স্পিকারের আইনজীবীর সওয়াল: স্পিকারের আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য সওয়াল করেন যে, ১৯৩৭ সালের ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল লেজিসলেটিভ পার্টি রুল’ অনুযায়ী, বিরোধী দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো বিতর্ক দেখা দিলে স্পিকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি দাবি করেন, বিরোধী দলের বিধায়কদের একাংশ অভিযোগ করেছিলেন যে তাঁদের সই জাল করা হয়েছে এবং মে মাসের ৬ তারিখের বৈঠকে তাঁরা উপস্থিত ছিলেন না। সেই সইয়ের বৈধতা যাচাই করা এবং বিরোধী দলের অভ্যন্তরীণ বিবাদ সামাল দেওয়া স্পিকারের দায়িত্ব ছিল।
পাল্টা তোপ আদালতের: আইনজীবীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত জানতে চায়, সই জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে ২৭ মে, কিন্তু তার আগে স্পিকার কেন কোনো পদক্ষেপ নেননি? বিরোধীদের তরফে যখন সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সইসহ রেজোলিউশন জমা দেওয়া হয়েছিল, তখন স্পিকার কেন তা উপেক্ষা করলেন? এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত অস্বচ্ছ বলে আদালত মনে করছে।
উল্লেখ্য, এই মামলায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের হয়ে সওয়াল করেন। আগামী বুধবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। বিরোধী দলনেতা নিয়োগের এই আইনি লড়াই এখন রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।





