কলকাতা পুরনিগমের বোর্ড ভেঙে যাওয়ার পর থেকে যে প্রশাসনিক শূন্যতা ও নাগরিক হয়রানি তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটাতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট করে দিলেন যে, এখন থেকে কলকাতা পুরনিগমের বিভিন্ন নাগরিক পরিষেবার নথিপত্রে সই করার ক্ষমতা থাকবে সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়কদের হাতেই।
কেন এই সিদ্ধান্ত? ৫ জুন পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা নানাবিধ নাগরিক পরিষেবা ও নথিপত্র সত্যায়িত করা নিয়ে সমস্যায় পড়েছিলেন। আগে এই কাজগুলি স্থানীয় কাউন্সিলররা করতেন, কিন্তু বোর্ড না থাকায় সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন সাধারণ মানুষ। বহু প্রাক্তন কাউন্সিলর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। এই টানাপোড়েন মেটাতেই পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর বিধায়কদের ওপর এই দায়িত্ব অর্পণ করল।
নির্বাচন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এই ব্যবস্থা: পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের নির্দেশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যতদিন না রাজ্যে পুর নির্বাচন সম্পন্ন হচ্ছে এবং নতুন বোর্ড গঠিত হচ্ছে, ততদিন এই ব্যবস্থা বহাল থাকবে। অর্থাৎ, প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটাতে এবার থেকে সাধারণ নাগরিকেরা তাঁদের এলাকার বিধায়কদের কাছেই নথিপত্রে সই করানোর জন্য আবেদন জানাতে পারবেন।
সহজ হবে নাগরিক পরিষেবা: পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে পাঠানো নির্দেশিকায় এই বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতদিন কাউন্সিলরদের ওপর নির্ভরশীল নাগরিকরা এখন স্থানীয় বিধায়কদের কাছে সই পাওয়ার সুবিধা পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে শহরবাসী। নিজের ওয়ার্ডে জনপ্রতিনিধির কাছে কাজের সুবিধা পাওয়ায় যে আক্ষেপ ছিল, বিধায়কদের এই ক্ষমতায়ন সেই অভাব অনেকটা পূরণ করবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।





